ভূমি সমস্যাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান সমস্যা। ভূমি মালিকানায় স্বীকৃতি না থাকার ফলে তারা ভূমিহীন ও দেশান্তরী হয়ে পড়ছেন। দেশের পাহাড় ও সমতলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রভাবশালীদের দ্বারা স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমি জোর-জবরদস্তি করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমতলে সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও তাদের ভূমি কমিশন গঠনের কোনো উদ্যোগ নেই। বৃহস্পতিবার ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২১’ উপলক্ষ্যে ‘আদিবাসীদের ভূমি সুরক্ষা ও করণীয়’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক উদ্যোগ ও আইপিনিউজ যৌথভাবে এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।
সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে অকার্যকর অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করার কথা থাকলেও এখনো তা করা হয়নি। সমতলের আদিবাসীদের জন্য মন্ত্রণালয় না থাকায় তারা সরকারের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না। মানবাধিকার কমিশন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের কাছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমি রক্ষা রিপোর্ট জমা দেবে এবং আমরাও সেটা পার্লামেন্টে নিয়ে যাব। সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট বসলে সেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার আইনের প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হবে। ’
সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভূমি সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। তবে আইনে যেন ভুল-ত্রুটি না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার আহবানও জানান তিনি।
পরিবেশ আইন বিষয়ক সংগঠন বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। মধুপুরের শালবন রক্ষায় কোর্টে মামলা করলেও কোর্ট বলছে গেজেট বাতিল হবে না। ভূমি ও বনাঞ্চল রক্ষায় ‘ফরেস্ট রাইট অ্যাক্ট’ প্রণয়নের কথা আমাদের ভাবতে হবে।’
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি যে ঐতিহাসিক অবিচার; বঞ্চনা ও বৈষম্য, তা বিলোপ হওয়া দরকার। তার জন্য আমরা লড়াই করছি। পাহাড়-সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার, মানবাধিকার, ভূমি অধিকার রক্ষার জন্য নাগরিক অধিকার কমিটি গড়ে তুলতে সবাইকে কাজ করতে হবে।’
নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, সিডিএর নির্বাহী পরিচালক শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনুরাগ চাকমা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মং ম্য উইন।
