মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিংগাইরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে অবশেষে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা। ঐ দুই কর্মকর্তা হলেন, বগুড়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক এনায়েতুল হক ও ড্রাইভার আব্দুর রাজ্জাক।
জানা যায়, সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের সাইদুর রহমান ওরফে সাইদুর মেম্বার স্বর্ণকারের দোকানের ছালিমাটির ব্যবসা করেন। গত ৫ আগস্ট ঠাকুরগাঁও থেকে ছালিমাটি কিনে বেলা ১২টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভোগা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বগুড়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঐ দুই কর্মকর্তা এবং তাদের ড্রাইভার তার মোটরসাইকেলটি থামান। তল্লাশির নাম করে পাশের একটি হোটেলে নিয়ে তার কাছে থাকা ১ লাখ টাকা এবং মোবাইল ফোনসেট হাতিয়ে নেন। এর পর তার মোবাইল দিয়েই তার স্বজনদের কাছে ফোন করে অস্ত্র মামলার ভয় দেখিয়ে নিজেদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আদায় করেন। তবে তারা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরবর্তীকালে গত রবিবার বিষয়টি নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুস সবুর মণ্ডলের কাছে সাইদুর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি সব কথা শুনে তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোসাদ্দেক হোসেন রেজাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়া মাত্র মোসাদ্দেক রেজা বুধবার তদন্তে নামেন এবং ঢাকা থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পান। তার নির্দেশে ভাগাভাগি করে নেওয়া সব টাকাই অভিযুক্তরা বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে গত বৃহস্পতিবার ফেরত দেন।
টাকা পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সাইদুর মেম্বার বলেন, ‘সরকারি অফিসে এখনো ভালো মানুষ আছেন বলেই টাকা ফেরত পেয়েছি। ’
ব্যবসায়ী তার টাকা ফেরত পেয়েছেন এখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে অতিরিক্ত পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন রেজা বলেন, ‘আগে টাকা আদায় হোক আমি এটাই চেয়েছিলাম। তা হয়েছে। যেহেতু এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এখন সোমবার ওদের ডেকেছি কী ব্যবস্থা নেব তা পরবর্তীকালে জানাব। ’
