দীর্ঘ তিন মাস পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন আয়নাল হক ও জমিরন বেগম দম্পতি। স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আবার বিয়ে করায় তাদের ‘একঘরে’ (সামাজিকভাবে বয়কট) করেছিল স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচার হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। পরে তাদের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সমাজচ্যুত ঐ দম্পতির বাড়িতে আসতে শুরু করেন পরিবারের সদস্য, পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছলিমনগর গ্রামে।
এর আগে গত সোমবার ভুক্তভোগী জমিরন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ ঘটনায় ১০ সমাজপতির নামে লিখিত অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে ছলিমনগর উচ্চবিদ্যালয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঐ দম্পতির ওপর সব প্রকার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রত্যয় হাসান, দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল হোসেন, সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে মূল ফতোয়াদানকারী মুফতি আনোয়ার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে বৈঠকে সমাজপতিরা বিষয়টি মেনে নিলেও ঐ দম্পতি ও তাদের পরিবারের লোকজন নানা আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
ইউএনও জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিদের নিয়ে ছলিমনগর স্কুলে বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত সবাই তাদের ভুল বুঝতে পারে। এরপর আমরা ঐ দম্পতিকে সমাজে ফিরিয়ে দেই। তারা একত্রে বসবাস শুরু করেছেন। এ নিয়ে যদি আর কেউ বাড়াবাড়ি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
