ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিত্সক না থাকায় বছরের পর বছর সার্জিক্যাল অপারেশন হচ্ছে না। আটটি অত্যাধুনিক জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া মেশিন পড়ে আছে। একই সাথে নাক কান গলার চিকিত্সক না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হচ্ছে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার লোকবল দিয়ে চালানো হচ্ছে ১০০ শয্যার এই হাসপাতাল। যদিও বর্তমানে নার্স পদে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হলেও বিশেষ করে চিকিত্সকের অনেক পদ শূন্য। সদর হাসপাতালে চিকিত্সকের ২৩টি পদ থাকলেও বাস্তবে মাত্র ছয় জন কনসালট্যান্ট কর্মরত আছেন। এছাড়া করোনার শুরু থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রেষণে আনা হয়েছে ১২ জন চিকিত্সক। কিন্তু জেনারেল সার্জন ও ইএনটি পদের কনসালট্যান্ট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

১০ আগস্ট সদর হাসপাতালে নলছিটি থেকে আগত পা ভাঙ্গা রোগী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে কথা হয়। নলছিটির একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে ব্যান্ডেজ করে অপরাশেনের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে এসে মরিয়ম জানতে পারেন চিকিত্সক না থাকায় অপারেশন হয় না। রিকশাচালক রহিম জমাদ্দার বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে অপারেশন করাতে এসেছিলাম। এখান থেকে বলছে বরিশাল যেতে। গত ৯ জুলাই কাঠালিয়ার আমুয়া বন্দরের সবজি বিক্রেতা সবুজ হাওলাদার সদর হাসপাতালে এসেছিলেন কানের চিকিত্সা করাতে। কিন্তু দূর থেকে এসে জানতে পারেন চিকিত্সক নেই। যেতে হবে বরিশাল। জানা যায়, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে জেনারেল সার্জন নেই প্রায় দেড় বছর। অপর দিকে নাককান গলার চিকিত্সক নেই প্রায় চার বছর। এ কারণে ঝালকাঠির সব রোগীদের সার্জিক্যাল অপারেশন এবং ইএনটির চিকিত্সা করাতে যেতে হচ্ছে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) শরিফ ইকবাল জানান, আমি দায়িত্বে আছি এক বছরের বেশি। এখানে আটটি অত্যাধুনিক জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া মেশিন আছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সেগুলো ব্যবহার করে কোনো অপারেশন করা সম্ভব হয়নি চিকিত্সক না থাকার কারণে। তাই লোকবল নিয়োগ না দিলে মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। জেনারেল সার্জনের পদায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ প্রতিদিন অনেক রোগী এখানে এসে চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএইচপি
