তপুর গোলে উদ্ধার আবাহনী

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৯

আবাহনী ১ : বিজেএমসি ০

 স্পোর্টস রিপোর্টার

একের পর এক সুযোগ নষ্টের মহড়ার পর জয়ের জন্য মরিয়া আবাহনী শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায় ২৭ মিনিটে। তপু বর্মনের মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ায়। শেষ পর্যন্ত এই গোল ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে আবাহনী। অথচ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের এই মাঠেই কদিন আগে আবাহনী ৫-১ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে পেশাদার লিগের সবচেয়ে বড় জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। কাল সেই মাঠেই আবাহনীকে জিততে হয়েছে অনেক কষ্টে। এমন জয়ে আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমস রাগে ক্ষোভে মাঠ থেকে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন কিনা তা প্রেসবক্স থেকে বুঝা গেল না। খেলা শেষেও তিনি কথা বলতে আসেননি। ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু হেঁটে হেঁটে বের হচ্ছিলেন। তার কণ্ঠে ঝরল রাগ ক্ষোভ, বললেন এভাবে গোল মিস করলে খেলবে কি।

বিজেএমসির বিপক্ষে আবাহনীর শুরুটা ছিল দারুণ। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল আবাহনী যদি গোলকিপার সোহেলকে ছাড়া মাঠে নামত তাহলেও বড় জয় পেতে পারত। দুর্দান্ত সব আক্রমণের স্রোতে বিজেএমসিকে ভাসিয়ে দিচ্ছিল আবাহনী। কিন্তু বিজেএমসির জালে বল জড়াচ্ছিল না। সানডে, রুবেল মিয়া, বেলফোর্ট, জীবনরা বিজেএমসির গোল মুখে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছিলেন। নাইজেরিয়ান প্লেমেকার সানডে যেভাবে সুযোগ নষ্ট করেছেন তা অপ্রত্যাশিত। হাইতির বেলফোর্ট বল গড়িয়ে দিয়েছিলেন রুবেল মিয়াকে। ছোট বক্সে দাঁড়িয়ে বল মারলেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পাওয়া জীবনও তেমন কিছু করতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত সানডে, বেলফোর্ট, রুবেল রানা, জীবনদের টপকে গিয়ে গোল করলেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। দেখার মতো গোল ছিল। মাঝমাঠের লাইন পার হয়ে একটু ভিতরে। ওয়ালী ফয়সালের ফ্রিকিক। উড়ন্ত বলে মাথা ছোঁয়ান তপু ১-০। লিগে প্রথম গোল তপুর। এক গোলেই তিন পয়েন্ট।

এই তপু জাতীয় দলের হয়ে গোল করে সবার নজর কেড়ে নেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফে ভুটানের বিপক্ষে দুই গোলের একটি ছিল তপুর। পাকিস্তানের বিপক্ষে তার গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। কাল তপুর গোলটা না হলে আবাহনীকে ভুগতে হতো। যদি গোল হজম করে ফেলত তাহলেও আবাহনীর সর্বনাশ হতো। এমনিতেই নীলফামারীতে বসুন্ধরার কাছে ৩-০ গোলে হেরে লিগ শিরোপা রক্ষার অভিযানে আবাহনীর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সেটা পুষিয়ে নেওয়াটাই এখন আবাহনীর বড় কাজ।

খেলা শেষে বিজেএমসির খেলোয়াড়রা রেফারি ভুবন মোহনকে ঘিরে ধরেছিলেন। তাদের দাবি  রেফারি ভুবন মোহন বিজেএমসিকে বঞ্চিত করেছে। খেলার শেষ দিকের ওই ঘটনার বর্ণনায়  স্ট্রাইকার শরিফুল ইসলাম খেলা শেষে বললেন, ‘আবাহনীর ওয়ালী ফয়সাল আমাকে পেছন থেকে মেরে ফেলে দিয়েছেন। এই দেখুন আমার বুট খুলে গিয়েছিল। মাটিতে ফেলে দিল, রেফারি পেনাল্টি দেয়নি।’

বিজেএমসি ৫ খেলায় ৪ হার, ১ ড্র। সমান খেলায় আবাহনী ৪ জয়ে ১২ পয়েন্ট।

আজকের খেলা : চট্টগ্রাম আবাহনী ও ব্রাদার্স। ৪টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। সাইফ স্পোর্টিং ও শেখ রাসেল। ৩টা, রফিক উদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহ।