আলোচনা সভায় বক্তারা

তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু 

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ১৬:৩৮

তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ছয় দফার মন্ত্র সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তার জীবন থেকে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে। 

শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘প্রজন্ম সৃষ্টির রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ওপরও জোর দেন। বিবি ফাউন্ডেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাহাদুর বেপারীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনুবিভাগের পরিচালক আরিফা রহমান রুমা, ব্যারিস্টার তানভীর সরোয়ার ও সাংবাদিক সাইফুর রহমান তপন। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক নজরুল ইশতিয়াক।

সুভাষ সিংহ রায় বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের মাত্র ১২ শতাংশ সময় নিজের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে দিয়েছেন। ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৪০ শতাংশ সময়ই জেলে কাটিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর ঝুঁকির কথা জেনেও পিছপা হননি এই বাংলাদেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য। তিনি এগিয়ে গেছেন। 

সুভাষ সিংহ রায় আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে বঙ্গবন্ধুর জীবনকে জানতে হবে। তার স্বপ্ন ও মানুষের প্রতি তার ভালবাসাকে জানতে হবে। তিনি কারাগারে থাকার সময়ও দেশের মানুষের কথা ভাবতেন। সবচেয়ে বড় বিষয় যে, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও দর্শন নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধু জরুরি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেনও। 

বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, আজও আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে করতে পারিনি।

নাজমা আক্তার বলেন, তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার ছয় দফার মন্ত্র সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তার ৭ মার্চের ভাষণে মানুষ স্বাধীনতা অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর তখনকার প্রজন্ম কী শিখেছিল, তা আমাদের ভেবে দেখতে হবে। এরপর আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল। খালেদা জিয়ার শাসনামলে স্লোগান হতো, ‘আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান’। কিন্তু এখন আমরা স্বাধীনতার মন্ত্রকে তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। যদিও কিছু ব্যত্যয় ঘটছে। স্বাধীনতার বিরোধী সন্তানেরা ষড়যন্ত্র করছে। 

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের বিশেষ করে ছাত্রলীগকে দায়িত্ব নিতে হবে। এমন কিছু করা যাবে না যার দায়ভার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিতে হয়।

বাহাদুর বেপারী বলেন, বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন একটা নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করতে হবে। মুঘল আমলের ভাবধারায় নয়, নতুন ভাবধারায়। আর সেই ভাবধারায় স্বাধীনতার এসেছে। 

তিনি বলেন, সংবিধানের আগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এসেছে। তাই সবাই ই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদেরও জয় বাংলা বলতে কোনও বাধা থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে প্রচারের লোভ, অর্থের লোভ ও নারী-পুরুষের লোভ থেকে দূরে থাকতে হবে।

ইত্তেফাক/এএএম