‘যত কাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান/তত কাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’—বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুতোয় গাঁথা। তার সমগ্র জীবনাদর্শই ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাকে ঘিরে। এজন্য তাকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও নির্যাতন সহ্য করেতে হয়েছে। তবুও দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, ও নীতি-আদর্শের কোনো কমতি ছিল না তার। সংগ্রামী ও সাহসী রাজনৈতিক জীবনের জন্য আমেরিকার বিখ্যাত সাপ্তাহিক নিউজ উইক তাকে "Poet of Politics" উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৯৭৩ সালে জনদরদী এ রাষ্ট্রনায়ক শান্তির জন্য ‘জুলিও কুরি’ পদক প্রাপ্ত হোন। ২০০৪ সালে বিবিসি কর্তৃক নির্বাচিত হোন ‘শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ রূপে। তিনি বাংলাদেশকে অনুজ্জ্বল অতীত থেকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাকে ভালোবেসেছেন তেমনি বাংলার মানুষেরও হূদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই দিয়েছে তাকে। বাংলার মুক্তির সনদ ছয় দফাতেই বাঙালির স্বাধীনতার বীজ লুকিয়ে ছিল, যা মুক্তির পথ দেখিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণে ওঠে আসে শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস ও যুদ্ধের ইঙ্গিত। এ ভাষণ পৃথিবীর সকল নিষ্পেষিত জাতিকে মুক্তির পথ দেখাবে।
স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু। শরণার্থী পুনর্বাসন, ভাঙা রাস্তা-ব্রিজ-কালভার্ট সংস্করণ, বিদেশি সহায়তা আদায়, পল্লী বিদ্যুত্ বোর্ড গঠন, সেতু নির্মাণ, ১১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, পল্লী উন্নয়নে বাজেটের ৬০ ভাগ ব্যয়, কৃষকদের ভাগ্য বদলে সুদমুক্ত ঋণের বন্দোবস্ত ও শোষণহীন সমাজ গড়তে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি’ প্রণয়নসহ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করার দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়েছিলেন। দেশপ্রেমের উজ্জীবিত বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদকে মূলনীতি করে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও সাফল্য দেখিয়েছেন। এভাবেই যখন দেশ স্বল্প সময়েই উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিনিয়ে আনছিল তখনই বাঙালি জীবনের কলঙ্কময় অধ্যায় নেমে আসে। কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে উপস্থিত সপরিবারে তিনি শহিদ হোন। কিন্তু ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ম্লান করতে পারেনি। তার প্রতিটি পদক্ষেপ সবসময়ই এ সমাজকে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। সোনার বাংলা গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমকে জাগিয়ে তুলতে হবে সবার মাঝে।
লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
