১৫ আগস্ট। ’৭৫-এর এ দিনটিতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যা করা হয়েছিল আব্দুর রব সেরনিয়াবাতসহ তার পরিবারের সদস্যদের। সেই কালরাত্রিতে আরো হত্যা করা হয়েছিল বাংলার বাণীর প্রতিষ্ঠাতা অগ্রজ শেখ ফজলুল হক মণি ও আমার অন্তঃসত্ত্বা ভাবি শামসুন্নাহার আরজু মণিকে। মণি ভাই ও ভাবিকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমিও তাদের পাশে ছিলাম।
দুঃখ জাগানিয়া আগস্টের সেই কালরাতে মণি ভাই ও ভাবিকে হত্যার একটি চাক্ষুস বিবরণ জাতির কাছে পেশ করার জন্য ঐতিহাসিক দায়েই আজ আমি কলম ধরেছি। এখানে তথ্যের কোনো অপব্যাখ্যা নেই। থাকবেই-বা কেন, স্বজন হননের মর্মান্তিক দৃশ্য ভুলবার কথা নয়। আমৃত্যু ঐ দুঃস্বপ্নের স্মৃতি প্রতি মুহূর্তে নাড়া দেবেই।
১৩ নম্বর সড়কস্থ ধানমন্ডির একটি বাড়ি। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত মণি ভাই এ বাড়িতে ছিলেন। দোতলা বাড়ির সামনে এক চিলতে উঠোন। ১৫ আগস্টের আগের দিন ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকেই বাড়ি লোকে লোকারণ্য। আমি এই দিন বিভিন্ন কাজকর্ম শেষ করে রাত ১১টার দিকে বাড়িতে ফিরি, তখন মণি ভাই ছিলেন না। আগত নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। মণি ভাই তখন অফিসেও ছিলেন না। রাত সাড়ে ১১টায় মণি ভাইয়ের গাড়ি এলো। কিন্তু তিনি এলেন না।
রাত সাড়ে ১২টায় মাকে নিয়ে মণি ভাই এলেন।
গাড়ি থেকে নেমে মা দোতলায় গেলেন। মণি ভাই ড্রইং রুমে গেলেন। সেখানে তিনি অপেক্ষমাণ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মিনিট দশেক কথা বললেন। পৌনে ১টার দিকে মণি ভাই খেতে বসলেন মা ও ভাবিকে নিয়ে। খাওয়া-দাওয়ার পর আ্ত্তজ পরশ-তাপসের ঘুমন্ত চোখে তাকিয়ে বেডরুমে ঢুকলেন। আমি তখন পাশের বেডরুমে ঘুমাতে গেলাম। ভোর ৫টা। ঘুম থেকে উঠে পড়লেন মণি ভাই। পরনে লুঙ্গি ও গেঞ্জি। নিচে নেমে এলেন দৈনিক কাগজগুলোর ওপর চোখ বুলানোর জন্য। হঠাত্ চোখ পড়ল বাইরের গেট, ২০/২৫ গজ দূরে একটি আর্মির গাড়ি। কাকভোরের আলো-আঁধারিতে কালো ইউনিফর্ম পরা আর্মির ল্যান্সার ফোর্সের এই দলটিকে দেখা মাত্রই মণি ভাই আবার ত্বরিত গতিতে ওপরে উঠে এলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় চিন্তিত তার মুখাবয়ব। কিন্তু একেবারেই বিচলিত হলেন না। ঐ সময় আমার স্ত্রী ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠেছে। মণি ভাইয়ের চিন্তিত অবয়ব দেখে ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, মণি ভাই কী হয়েছে? মণি ভাই কোনো কথা বলেন না। তার চোয়াল শক্ত হলো। বেডরুমে ঢুকে ফোন করলেন। আকাঙ্ক্ষিত নম্বরে ডায়াল করে এনগেইজড টোন পেলেন। খুব সম্ভবত বঙ্গবন্ধুকেই ফোন করেছিলেন। এরপর ফের টেলিফোন রিসিভার তুলে ডায়াল করলেন। কিন্তু প্রত্যুত্তর নেই। এই সময় ফোন বেজে উঠল। মণি ভাই ধরলেন। অপর প্রান্ত ভেসে এলো সেরনিয়াবাত সাহেবের বাড়ি আক্রান্ত। ‘ফোন রাখো আমি দেখছি’। মণি ভাই ফোন ছেড়ে দিলেন। ঠিক এ সময়ে সেনাবাহিনীর ছয়-সাত জন লোক ভারী বুটের শব্দে সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠতে উঠতে চিত্কার শুরু করল; মণি সাহেব কোথায়, উনি আছেন? মণি ভাই দ্রুত বেডরুম থেকে বেরিয়ে এসে ছোট স্পেসের আগন্ত্তকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, এই আমি, কী হয়েছে? মণি ভাই আবার বললেন; কী হয়েছে বলুন। ওদের ভেতর থেকে একজন বলল, ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট। তখন উদ্বেগ আর ক্ষোভে জ্বলে উঠলেন মণি ভাই। বললেন, হোয়াই, কী অন্যায় করেছি আমি? মণি ভাইয়ের এই ক্ষুব্ধ কণ্ঠে ক্ষিপ্ত হয়ে একজন মণি ভাইয়ের মাথায় আঘাত করল, চুলের মুঠি ঝাপটে ধরল। দৃশ্যটি দেখে আমার স্ত্রী আমাকে ডাকল। বলল, কী সাহস, কারা যেন মণি ভাইকে মারছে! দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আমি বেরিয়ে মণি ভাইয়ের চুলের মুঠি চেপে ধরা হাতটা জাপটা দিয়ে ছাড়ালাম। ভাবিও এসে মণি ভাইয়ের ডান পাশে দাঁড়াল। পরশ-তাপস দরজা সোজাসুজি বিছানায় ঘুমে শায়িত। অনুজ মারুফ তখন নিচে। ও গান পয়েন্টের মুখে। ওদের একজন বলল, আমাদের সঙ্গে যেতে হবে, অ্যাগেইন রিপিট ইট, ইউ আর নাউ আন্ডার অ্যারেস্ট।
মণি ভাই বললেন, ঠিক আছে, আসছি। এ কথা বলে একটু ঘুরে ঠিক যে মুহূর্তে তিনি জামা-কাপড় পালটানোর জন্য তার রুমের দিকে যেতে উদ্যত হয়েছেন, ঠিক তখনই দুই-তিন গজ দূর থেকে ব্রাশ ফায়ার! আমরা সবাই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। মণি ভাই ও ভাবি বুলেট বিদ্ধ। আমার গায়ে গুলি লাগেনি। রক্তধারায় মেঝে লাল হয়ে যায়। আমার স্ত্রীর গায়েও গুলি লাগেনি। মণি ভাই ও ভাবির রক্তে আমার জামা-কাপড় রঞ্জিত হলো; ওরা দ্রুত নিচে নামতে থাকে, আমার মা এ দৃশ্য দেখে চিত্কার করেন। তখন ওপরে উঠে ওরা আবার আমাদের লক্ষ্য করে ফায়ার শুরু করল। এবারও আমার গায়ে গুলি লাগল না। আমার স্ত্রী দরজার আড়ালে ছিল। এরপর তাড়াহুড়ো করে আগন্ত্তক খুনিরা নিচে নেমে যায়। গুলির শব্দে পরশ-তাপস চিত্কার করে ওঠে। আমার স্ত্রী দৌঁড়ে ওদের কাছে ছুটে যায়। ওদের জড়িয়ে ধরে বলে, বাবা চিত্কার করে না, লক্ষ্মীটি চিত্কার করে না। ওরাও তখন কিছু বুঝল না। চাচির বুকের ওপর পড়ে ডুকরে চাপা কান্নায় ভেঙে পড়ল। একই সঙ্গে মাও চিত্কার করে তার রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর মা অজ্ঞান হয়ে ঐ রক্তের ওপর লুটিয়ে পড়েন। আমরা তখন মৃত্যুর মুখোমুখি। ওদের গুলির ঝাঁকে সারা বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। খুনিরা অতঃপর চলে গেল। মার সঙ্গে সঙ্গে আমার বৃদ্ধ পিতা শেখ নুরুল হক ঘর থেকে বের হয়ে এসে এই করুণ অবস্থা দেখে তার বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ তিনি নিথর-নিস্তব্ধ হয়ে থাকেন। তিনি নির্বাক নিশ্চুপ হয়ে একদৃষ্টিতে মণি ভাইয়ের লুটিয়ে পড়া দেহের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
রক্তাক্ত দেহ নিয়ে মেঝে থেকে উঠে নিথর মণি ভাইয়ের দিকে তাকালাম। ভাবির দিকে চোখ ফেরালাম। তার ঠোঁট নড়ছে। যন্ত্রণার আর্তিতে বলে উঠলেন, আমার পেট ছিঁড়ে ফুঁড়ে গেছে! তিনি বললেন, সেলিম ভাই আমাকে বাঁচান আমার দুটো বাচ্চা আছে! পরশ-তাপস তখন চাচির বুক থেকে নেমে মা-বাবার দেহের কাছে ছুটে যায়। ওরা মা-বাবার মুখের কাছে মুখ রেখে কান্নায় ভেঙে পড়ল; মা কথা বলো, বাবা কথা বলো! নিচ থেকে ছোট ভাই মারুফ ওপরে উঠে এলো। তার চোখ পাথরের মতো অনড়। আমি তাড়াতাড়ি ৩২ নম্বরে ফোন করলাম। কিন্তু লাইন পেলাম না। মারুফ চেষ্টা করে ফোনে শেখ জামালকে পেল। ওরা দুজন অভিন্ন হূদয় বন্ধু। মারুফ জামালকে জানাল, মণি ভাইকে মেরে ফেলেছে, ভাবি আহত। তখন বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ ভেসে আসে—বঙ্গবন্ধু বলেন, আমার মণিকেও মেরে ফেলছে। জামালের উদ্ভ্রান্ত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো; দোস্ত রাখ। আমাদের বাড়িতেও গুলি হচ্ছে। মারুফ ফোন রেখে দেয়। এখনো বুঝতে পারছি না কী ঘটছে? আমি, মারুফ ও শাহাবুদ্দিন মণি ভাই ও ভাবিকে নিয়ে পিজিতে ছুটলাম। আমার গাড়িতে ছিলেন ভাবি। মারুফের গাড়িতে মণি ভাই। পথে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর দেখা পেয়ে মারুফ তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। পিজির সামনেই দেখলাম আর্মি পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। বাংলাদেশ বেতারের সামনেও আর্মি। ওদিকে যাওয়া মুশকিল। গাড়ি ঘুরিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে হর্নের শব্দ শুনলাম। ঐ গাড়িতে ছিলেন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তার পরিবারের সদস্যদের লাশ! ঐ গাড়িতেই ছিলেন রমনা থানার ওসি মি. আনোয়ার। তিনিও জানতেন না কী ঘটছে। মণি ভাইকে সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন দেওয়া হলো। ভাবিকে নিয়ে যাওয়া হলো অন্য ওয়ার্ডে, ইমারজেন্সির বারান্দায় সেরনিয়াবাত সাহেবের ১১ বছরের গুলিবিদ্ধ কন্যা বেবী একটু একটু করে নড়ছে। ডাক্তারকে বললাম, একটু দেখুন। কিছু সময় পর সে আর বাঁচেনি। এই কিশোরীটিরও আমার চোখের সামনেই মৃত্যু হলো। আমি মণি ভাইয়ের কাছে ছুটে গেলাম ডাক্তার বললেন, উনি আপনার কে হন?
-আমার ভাই।
-দুঃখিত। অনেক চেষ্টা করেছি। বাঁচাতে পারলাম না। শুনে মুহূর্তে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। ছুটে গেলাম ভাবির কী অবস্থা দেখতে। ধারণা ছিল ভাবি হয়তো বেঁচে যাবেন। কিন্তু তিনিও অসুন্দরের হাতে মৃত্যুবরণ করে পরপারে চলে গেলেন। মণি ভাইয়ের বুকে, গলায় ও থুতনিতে তিনটি গুলির চিহ্ন ছিল। আর ভাবির পেট ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল। তখনই বঙ্গবন্ধুর বাসা থেকে মেডিক্যাল কলেজে বুলেটবিদ্ধ কয়েক জন আহত লোক এলো। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর বাসার কাজের লোক আলতাফ ছিল। সে মারুফকে বলল, ভাই সাহেবকে, কামাল ভাইকে, সবাইকে মেরে ফেলেছে। এ খবর মারুফ আমাকে বলার পর তখন আসল ব্যাপারটা বুঝতে পারি। এর কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতাল আর্মি ঘেরাও করল। আমি বাসায় ফোন করে স্ত্রীকে বললাম তোমরা বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ো। পাশের বাসায় চলে যাও। ফোন করেই আমি, মারুফ ও শাহাবুদ্দিন হাসপাতালের তিন তলায় চলে গেলাম। তখন বাইরে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত। এদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় কোনো চেনা মুখ দেখা গেল না। কিছু সাধারণ মানুষ চিত্কার করে বলছেন, লাশ দিন আমরা মিছিল করব। পরে অবশ্য খুনিদের অস্ত্রের দাপটে মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি জনশূন্য হয়ে যায়। তখন হাসপাতালে থাকা আমাদের পক্ষে নিরাপদ নয়। আমাদের গায়ের জামাকাপড়ে মণি ভাই ও ভাবির দেহের রক্তের চিহ্ন। এভাবে বের হওয়া মুশকিল বিধায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম মনিরুল হক, নিউরো সার্জন ডা. কনক ও আরো কয়েক জন ডাক্তার খুব সতর্কতার সঙ্গে আমাদের বের করে দেন। রক্তাক্ত জামাকাপড়গুলো খুলে ফেলে তাদের জামাকাপড় পরেই বের হয়েছিলাম।
বাড়িতে ফিরে দেখি বাড়ির লোকজন কেউই সরে যায়নি। আমরা তখন আরো উদ্বিগ্ন। আমাদের দেখেই পরশ ও তাপস কান্নায় ভেঙে পড়ল। ওরা বলল, চাচা, আমাদের মা-বাবা কোথায়? মা-বাবার কাছে আমাদের নিয়ে যাও, মা-বাবাকে আমাদের কাছে এনে দাও। পরশের বয়স তখন পাঁচ। তাপসের বয়স সাড়ে তিন। এই অবোধ শিশু দুটির কথার জবাব সেদিন দিতে পারিনি। বুক থেকে একটি ভারী বাতাস কণ্ঠ অবধি এসে আটকা পড়েছিল।
আবার শুনলাম সেই একই চিত্কার, মণি সাহেব আছে? সামরিক উর্দিপরা জিপ গাড়িতে একদল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের টু্রপ আমাদের বাসার সামনে এসে দাঁড়ায়। আমি জবাব দিলাম, তিনি হাসপাতালে। তাদের একজন বলল, ছুটাছুটি করবেন না। আমরা দেখছি। তারা চলে গেল।
তখন আমরা পাশের একটি বাড়িতে চলে গেলাম। দূর থেকে দেখলাম আরেকটি সামরিক গাড়ি। কিছু আর্মি আমাদের বাসায় ঢুকে সোনার গহনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করতেও বাকি রাখল না। সেই কালরাত্রির রক্তবন্যার নীরব সাক্ষী হয়ে আজকের স্মৃতি রোমন্থন বড়ই কষ্টকর।
তবুও লিখলাম ভাবী বংশধরদের জন্য। ১৫ আগস্টের কাল রাতে হারিয়েছি অনেক আ্তাার আ্তীীয় ও রক্তের সম্পর্কে গড়া মানুষকে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মামি বেগম মুজিব, ছোট মামা শেখ আবু নাসের, মামাতো ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল ও কামাল-জামালের নবপরিণীতা বধূদ্বয় সুলতানা ও রোজী, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা এবং আমার ভাবি শামসুন্নাহার আরজু মণি, সেরনিয়াবাত সাহেবের ১১ বছরের কন্যা বেবী, ১০ বছরের পুত্র আরিফ, তার ভ্রাতৃষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত সাহেবের নাতি বাবু ও আ্তীীয় রেন্টু এবং আমার বড় ভাই শেখ ফজলুল হক মণিকে। আরো হারিয়েছি বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা প্রহরী কর্নেল জামিলকে। এতগুলো মৃত্যুর, এতগুলো স্বজন হননের রক্তের বন্যায় আজ আপন সত্তা ও বিবেক ঘৃণার অনলে জ্বলে ওঠে। অশ্রু সে তো কবেই শুকিয়ে মরু হয়ে গেছে। তবুও প্রশ্ন থাকে। বিবেক ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সরকার কী করে এত বড় একটা অন্যায় মেনে নিতে পারেন!
মণি ভাইয়ের সেই মৃত্যুকালীন জিজ্ঞাসা—‘কী অন্যায় করেছি আমি’ এখনো আমার কানে বাজে। কানে বাজে ভাবির সেই শেষ আর্তনাত—‘আমাকে বাঁচান, আমার দুটো বাচ্চা আছে।’
লেখক :রাজনীতিবিদ
