গ্রেফতারকৃত চিত্রনায়িকা পরীমণির মুক্তির দাবিতে গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিকজন’। সমাবেশে অংশ নেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, মানবাধিকার কর্মী, লেখক, প্রকাশক, চলচ্চিত্র পরিচালকসহ সংস্কৃতিমনা নাগরিক সমাজের অনেকেই। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সামান্য মাদক মামলায় একজন মানুষকে জামিন না দিয়ে দুই বার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। যা অযৌক্তিক। আমরা অতীতে দেখেছি মাদক মামলায় অনেকে জামিনে বেরিয়েছে, তাহলে তাকে কেন বারবার জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। তিনি একজন শিল্পী, তার হেনস্তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সরকারবিরোধী কোনো কথা বলছি না। সরকারকে অনুরোধ করি, পরীমণিকে ফিরিয়ে দিন। আমরা তাকে শুটিং সেটে দেখতে চাই।’
পরীমণিকে নিয়ে নির্মিতব্য ‘প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক রাশিদ পলাশ বলেন, ‘আমি চাই, ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে থাকা বীরদের সব দর্শকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। এই লক্ষ্যেই প্রীতিলতা সিনেমাটি বানাতে চেয়েছিলাম। যার প্রধান চরিত্রে বেশ আগ্রহ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন পরীমণি। আজ (শনিবার) আমরা এখানে সেই প্রীতিলতার জন্য দাঁড়িয়েছি। আমরা পরীমণির মুক্তি চাই।’
সমাবেশে লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শ্বাসতী বিপ্লব বলেন, ‘যাকে যখন ভালো লাগবে না তাকে তখন ‘নষ্ট মেয়ে’র তকমা লাগিয়ে দেবেন। এটা হতে পারে না। ’
বিক্ষুব্ধ নাগরিকজনের আহ্বায়ক ও শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকার রবিন আহসান বলেন, ‘গণমাধ্যম টানা পরীমণিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। পুলিশ যেভাবে উপস্থাপন করছে, সংবাদমাধ্যমও সেভাবেই কাজ করছে! ’
সমাবেশের এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে টেলিফোনে যুক্ত হন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি ফোনের মাধ্যমেই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। পরীমণিকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী মুশফিকা লাইজু, নির্মাতা রায়হান জুয়েল, সংগীতা ঘোষ, প্রকাশক দেলোওয়ার হোসেন, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আকরামুল হক, মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিকনেতা আবুল হোসাইন প্রমুখ।
