খালেদা জিয়ার ছয়টি জন্মদিন জাতির কাছে তামাশা :কাদের

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ২২:০৭

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘বিএনপি যাকে দেশনেত্রী বলেন, সেই বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন ছয়টি। জাতির সঙ্গে এর চেয়ে বড় নির্মম তামাশা আর কিছুই হতে পারে না।’ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি প্রশ্নে রেখে তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এক নির্মম, বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড ১৫ আগস্ট। এ দিনে ভুয়া জন্মদিন পালন করে খালেদা জিয়া জাতির সঙ্গে তামাশা করছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী বেগম জিয়ার জন্ম তারিখ ৯ আগস্ট ১৯৪৫; বিবাহ সনদে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫, পাসপোর্ট সনদে ১৯ আগস্ট ১৯৪৫। আবার দাবি করেন ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ তার জন্মদিন। আর করোনা টেস্টের জন্য দেওয়া তথ্যে জানা গেল খালেদা জিয়ার জন্মদিন ৮ মে ১৯৪৬।

পরাজিত ও প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ উদার গণতন্ত্র এবং রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলে এতো রক্তপাতের পরেও এ দেশে আপনারা রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন। ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েও প্রতিক্রিয়াশীল চক্র থেমে থাকেনি। টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশ ও উত্স থেকে টিকা আসছে। আগামী ছয় মাস টিকা আসা অব্যাহত থাকবে। গণটিকা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। টিকা নিয়ে কোনো সংকট নেই, আগামী দিনেও হবে না।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ভাইরাসটি শনাক্তকরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছাড়াও চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ১৫ আগস্টের সকল শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর যে সমস্ত খুনিদের এখনো ফাঁসি দেওয়া যায়নি তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানান।

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, বিএমআরসির  বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ও বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। এছাড়া বিএসএমএমইউতে আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ প্রমুখ।  আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, ডিনবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিত্সকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।