চট্টগ্রামে করোনার মধ্যে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। আক্রান্তরা নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ও চিকিত্সকদের প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন। সরকারি হিসাবে এই পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। আর মারা গেছে দুই জন রোগী। এদিকে নগরীতে ডেঙ্গুর প্রজননকেন্দ্র ধ্বংসে চসিকের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে ঢিমেতালে। হারবাল লার্ভিসাইড ওষুধ ও স্প্রে মেশিনের স্বল্পতা রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী চিকিত্সা নিতে আসছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখানে করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য আলাদা জোন রয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ছয় জন চিকিত্সাধীন। করোনার মতো ডেঙ্গু রোগীদেরও গুরুত্বের সঙ্গে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।’
বেসরকারি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বেশ কয়েক জন ডেঙ্গু রোগী চিকিত্সা নিয়েছে। বর্তমানে কয়েক জন ভর্তি আছে। আমরা প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রিপোর্ট করছি।’ বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের এমডি ডা. রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা থেকে আসা এক জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। ন্যাশনাল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইফাজ বলেন, এই পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিত্সা নিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিলিভ সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামে এই পর্যন্ত ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছে। ডেঙ্গু প্রজননকেন্দ্র ধ্বংসে নগরী ও জেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি চবির একটি গবেষক দল পরীক্ষা করে প্রমাণ পেয়েছে চসিকের ব্যবহূত ছিটানো ওষুধ মশার প্রজননকেন্দ্র ধ্বংসে প্রায় অকার্যকর। তারা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছেন। ফগার মেশিনের পরিবর্তে স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানোর জন্য বলেছেন। গবেষক দল নগরীর ৯৯টি স্পট থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে ১৫টি স্থানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করেছেন। চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানায়, ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে তাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। প্রতি লিটার এলডিইউতে ৬০ মিলিলিটার করে লার্ভিসাইড মিশিয়ে প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফগার মেশিনের পরিবর্তে ২০টি ডিজেলচালিত টু স্ট্রোক স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। চবির গবেষক দল হারবাল লার্ভিসাইড ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করেছেন। কিন্তু এই ওষুধ চসিকের পর্যাপ্ত মজুত নেই। চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের উপ-প্রধান মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, চবির গবেষক দলের সুপারিশ অনুসারে হারবাল লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। বর্ষাকাল হওয়ায় লার্ভা চিহূিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে লার্ভা ধ্বংস করা সহজ হয়। একটি ওয়ার্ডে চারটি স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।’
