বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করেছে, তারা গুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। তারা যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তাদের যে গুম করার, বিচারবহির্ভূত হত্যার মানসিকতা, মন্ত্রীর বক্তব্যে তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। সরকার তাদের খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে সব গুম হওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
গতকাল শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গত জুন মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশে গুমের শিকার ৩৪ জন ব্যক্তির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চায়। এ বিষয়ে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুনিয়ার কমবেশি সব দেশেই এগুলো হয়, ভারতে হয়, পাকিস্তানেও হয়। ভারতে তারা কথা বলে না, পাকিস্তানে বলে না, আমরা তাদের বেশি পাত্তা দিই বলে তারা (জাতিসংঘ) বলতেই থাকে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিশ্বের কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এটা হতে পারে না। ভারতে কী হচ্ছে, পাকিস্তানে কী হচ্ছে সেটা নয়, বাংলাদেশ কী হচ্ছে সেটা দেখতে হবে। ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল এভাবে গুম হয়ে যাওয়ার জন্য? একজন রাজনীতিক, এমপি, ব্যারিস্টার, ব্রিগেডিয়ার, কাউন্সিলর গুম হয়ে গেলেন, তাদের কোনো খোঁজ নেই।’
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, সরকার টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের কোনো বিজ্ঞান ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পারেনি। উপরন্তু দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অন্যান্য উত্স থেকে টিকা প্রাপ্তির সম্ভাবনা বিনষ্ট করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের হিসাবেই দেখা যাচ্ছে দুই ডোজ টিকা পেয়েছে মাত্র ৫২ লাখ মানুষ। প্রথম ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ। অথচ জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। আজ পর্যন্ত সরকার টিকার সুনির্দিষ্ট কোনো রোড ম্যাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। টিকা নিয়ে এ প্রতারণা অপরাধের শামিল।
