ঋতু

‘আজি শরতের আকাশে মেঘে মেঘে স্বপ্ন ভাসে’

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ২০:০৫

 

পরিষ্কার নীল আকাশে সাদা মেঘের ওড়াউড়ি। নদীর ধারে কাশফুলের নাচন। শিউলির মন ভোলানো সুবাস আর স্নিগ্ধ জ্যোত্স্নার পরশমাখা ছবি। স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘের কারুকাজ, নিচে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের মেলা! কবি যেমন বলেছেন, ‘আজি শরতের আকাশে মেঘে মেঘে স্বপ্ন ভাসে’। ঋতু পরিক্রমায় তৃতীয় ঋতু শরত্ আসে ভাদ্র ও আশ্বিন মাস নিয়ে। শরেক শুভ্রতার প্রতীক বললেও অত্যুক্তি হবে না। শরতের স্নিগ্ধতা আকর্ষণীয়।  যখন শরত্ আসে তখনো বর্ষা হারিয়ে যায় না। এই মেঘ, এই বৃষ্টি আবার কিছুক্ষণ পর রোদের আলোছায়ার খেলা—এ যেন শরতের চিরচেনা বৈশিষ্ট্য। ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। নদী, খাল-বিল, পুকুর, হাওর-বাঁওড়ের স্বচ্ছ পানিতে হরেক রকম শাপলার অনুপম সৌন্দর্য শুধু শরতেই সম্ভব। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ও বিলের ধানের ওপর সোনালি আলোক রশ্মি ছড়িয়ে পড়ে। দূর্বাঘাসের ওপর সঞ্চিত শিশিরবিন্দুতে রূপালি মুক্তার আভা খেলা করে। শরতে অবারিত সবুজ মাঠ অন্যতম আকর্ষণ। শুধু কাশফুলের সৌন্দর্য নয়—শরতে শাপলা, শালুক, পদ্ম, জুঁই, কেয়া, শিউলি, জবা, কামিনী, মালতি, বেলি, দোলনচাঁপা, মল্লিকা, মাধবী, নয়নতারা ইত্যাদি ফুল ফুটে। শিশিরভেজা ধান, শিউলি ফুল, স্বচ্ছ জলে শুভ্র শাপলার সৌন্দর্য সত্যিই বৈচিত্র্যময়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শরতের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ/এমন  রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই...। শরত্ জুড়ে রাশি রাশি অপরূপ সৌন্দর্য, শিউলির মন মাতানো সুবাসে মুখর থাকে চারপাশ। অবসাদগ্রস্ত মনেও আশার সঞ্চার করে। ঋতু পরিক্রমায় শরত্ আসে শরত্ যায়; কিন্তু কবিচিত্তে রেখে যায় কত শত আকুতি! শরতের বৃষ্টি আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। শরতের বিকেল যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যায়! শরতে অল্পবিস্তর বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম থাকেই। শরতে হরেক রকমের পাখির আনাগোনা দেখা যায়। পরিযায়ী পাখিরাও আসতে শুরু করে এ সময়। শরতের মন ভোলানো প্রকৃতিতে মন যে কী চায় তা অনুধাবন করা খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে! শহর জীবনে শরতের উপস্থিতি খুব একটা টের না পাওয়া গেলেও শরত্ ঠিকই তার সৌন্দর্য বিলিয়ে দিয়ে যায় প্রকৃতিজুড়ে।

শরত্ হিন্দুধর্মাবলম্বীর সবচেয়ে বড় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রায় সব ঋতুর চিরচেনা আচরণ বদলে গেছে! জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে শরতের সেই মাধুর্য ও নান্দনিকতা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই প্রকৃতি-পরিবেশকে তার মতো করে থাকতে দিতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা যায় না। প্রকৃতিতে প্রতিটি ঋতুর সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ুক। শরতের আকাশে পেঁজা তুলার মতো স্বপ্নরা ভেসে বেড়াক, কাশফুল তার চিরচেনা পরশ বুলিয়ে যাক—এটাই প্রত্যাশা।

সাধন সরকার