জলে ভাসে ধনবাড়ী শহর!

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ২০:৫৪

ভোগান্তিতে পৌরবাসী

ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরজ্জামান বকুল জানান, অধিকাংশ ড্রেন মজে যাওয়ায় এবং সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতার প্রকোপ দেখা দেয়। মাস্টার ড্রেন করা জরুরি

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

শহরের আশপাশে কোনো নদী-খাল, বিল-ঝিল নেই। তবু শহরটি জলে ভাসে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে হাটবাজার, খেলার মাঠ, অফিস প্রাঙ্গণ, বাসস্ট্যান্ডসহ সর্বত্র পানিতে তলিয়ে যায়। যেদিকে তাকানো যায় শুধুই জল আর জল। এমন জলাবদ্ধতা যেন শহরবাসীর নিয়তি। জলজটের এমন ভোগান্তির বর্ণনা দিচ্ছিলেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভার নিজবর্ণি গ্রামের প্রবীণ নজরুল ইসলাম।

জানা যায়, রাজা ধনপতি সিংহের প্রাচীন রাজধানী ধনবাড়ী সুপ্রাচীন কাল থেকেই বিখ্যাত ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ সালে ধনবাড়ীকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। ২০০৬ সালে মর্যাদা পায় পৃথক উপজেলার। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও ধনবাড়ীর তেমন উন্নয়ন হয়নি। ২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভার লোকসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ৪ বর্গ কিলোমিটার বাদে পুরোটাই অজপাড়া গাঁ। পাকা রাস্তা মাত্র ৬৮ কিলোমিটার। কাঁচা রাস্তা ৫৪ কিলোমিটার। পাকা ড্রেন সাড়ে ৮ কিলোমিটার। আর কাঁচা ৮ কিলোমিটার। বর্ষাকালে ৫৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পথচারীদের জুতো হাতে নিতে হয়। অপর দিকে পাকা রাস্তার এক-চতুর্থাংশই ভাঙাচোরা। রিকশা তো দূরের কথা, উষ্ঠা খেয়ে কদম ফেলতে হয়। দুই বছর আগে পৌর কর্তৃপক্ষের নির্মিত অনেক পাকা রাস্তার কোনো অস্তিত্বই নেই। শহরের পাকা নালার প্রায় পুরোটাই ভরে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলে পানি বেরিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই পানি শহরের রাস্তাঘাট উপচে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে প্রবেশ করে। শহরের ৮ কিলোমিটার কাঁচা নালায় সর্বদা ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়।

বৃষ্টি হলে সেসব ময়লা আবর্জনা পানির সঙ্গে পাকা সড়কের ওপর ভাসে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের প্রধান সড়ক, কেন্দুয়া সড়ক, কলেজ রোড, কাঁচা বাজার সড়ক এবং ঈদগাঁ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় এসব সড়ক ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকে। তখন যাতায়াতে নিদারুণ ভোগান্তি হয়।

ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরজ্জামান বকুল জানান, অধিকাংশ ড্রেন মজে যাওয়ায় এবং সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতার প্রকোপ দেখা দেয়। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। চলতি অর্থবছরে সরকার এ খাতে বরাদ্দ দিয়েছে। করোনার কারণে কাজ থমকে গেছে। মাস্টার ড্রেন করা জরুরি। ছোটখাটো ড্রেন পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে গেছে। খুব দ্রুতই এসবের নিরসন হবে।