মরিচের ফলন ও দামে খুশি নওগাঁর কৃষক

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ২০:৫৪

নওগাঁ প্রতিনিধি

কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় হাসি ফুটেছে নওগাঁর মরিচচাষিদের মুখে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় চার গুণ। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় অধিক লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ সদরের বর্ষাইল, মহাদেবপুর ও বদলগাছীর ২০টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে করা হয়েছে মরিচের আবাদ। এখন চলছে মরিচ তোলার মৌসুম।

মহাদেবপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ডাক্তারের মোড় কাঁচা মরিচের বড় বাজারে সরজমিনে দেখা গেছে, চাষিদের কাছ থেকে মরিচ কিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দিনভর বাজার থেকে মরিচ কিনে রাতে ট্রাকে নিয়ে যান পাইকারি বাজারে। মরিচ চাষিরা জানান, লক্ষ্মীপুর ডাক্তারের মোড়ে মরিচের বাজারে আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। কিন্তু করোনাকালীন দুুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বেচা কেনা চলে। গড়ে প্রতিদিন সাত থেকে আট মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হচ্ছে। বর্তমানে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর ডাক্তারের মোড় মরিচ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলতি মৌসুমের প্রথম দিকে মরিচের অনেক সরবরাহ ছিল। তখন দাম কম ছিল। বর্তমানে মরিচ শেষের দিকে, বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিতে মরিচের গাছ মরে গেছে। ফলে যেটুকু বাজারে উঠেছে তার দাম বেশি। এ দামে প্রান্তিক মরিচ চাষিরা খুব খুশি।

চকশিয়ালী গ্রামের প্রান্তিক চাষি অসিম দাশ জানান, চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ করি। এতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। আগে মাত্র ৬০০ থেকে দেড় হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ মরিচ সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরো এক দেড় মাস তুলতে পারবেন। ঐ জমি থেকে আরো লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রির আশা তার।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারদরে চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।