ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যয় যা বর্তমানে আলোচিত একটি বিষয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নেন একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্রান্তিকালের মধ্যেও বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তী প্রজন্মকে গ্লোবাল ভিলেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চিন্তাও ছিল তার পরিকল্পনায়। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দান করার, বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচার। আর তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে, জ্ঞানভিত্তিক জাতি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ভিশন-২০২১, ২০৩০, ২০৪১ ঘোষণা করেছেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলাই যার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে সরকারি অফিস, আদালত থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি সেক্টরকে প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অর্থাত্ ডিজিটালাইজেশন করার জন্য কাজ করছে সরকার।
বাংলাদেশ জনবহুল একটি দেশ। এদেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মানবসম্পদ। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই যুবক, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫-এর ভেতর। এই যুব সমাজকে আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা হলে বিশ্ব দরবারে উন্নত দেশ হিসেবে জায়গা করে নিতে পারার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। তাদের প্রযুক্তি বান্ধব করে গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন গবেষণা ও মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা। আর এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি মানসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে তাহলে দেশের যুবসমাজ মানবসম্পদে পরিণত হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিক্রমায় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা পালটে যাচ্ছে। মানুষ আগের তুলনায় এখন অধিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে। বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন বিজনেসের দরুন অনেক গৃহিণী মেয়ে এবং শিক্ষার্থীরা নিজেদের কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তুলেছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের মাধ্যমে এ দেশের বৃহত্ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে ‘জ্ঞান অর্থনীতির’ যুগে প্রবেশ বাংলাদেশ অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করবে। যার ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অর্থনীতির চাকা আরো সচল হবে। জিডিপির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। প্রশাসনিক স্তর থেকে শুরু করে সর্বস্তরে দুর্নীতির মাত্রা কমে যাবে। প্রশাসনিক কাজে আরো গতিশীলতা আসবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে যোগ্য মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
