বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীর ফ্ল্যাটের সামনে লোহার দেওয়াল

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ২২:৩০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের মধ্যে একমাত্র নূর চৌধুরীর অবস্থান জানা গেছে। নূর এখন সস্ত্রীক কানাডার টরন্টোর ইটোবিকোতে ভালহাল্লা রোডের একটি ফ্ল্যাটের তিন তলায় বসবাস করছেন। সেখানে ২০১৯ সালে ঘৃণা প্রকাশ করে জুতা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নূর চৌধুরী ৫ জুলাই ১৯৯৬ সালে হংকং থেকে মাল্টিপোল ভিজিট ভিসা নিয়ে স্ত্রী রাশেদা খানমসহ কানাডায় ঢুকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ২০০২, ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে চার চার বার তার আবেদন নাকচ হয় এবং ২০০৭ সালের ২১ মে তাকে কানাডা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ। কিন্তু তত্কালীন অটোয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনার রফিকউদ্দিন আহমদের (খন্দকার মোশতাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের ঘরের পুত্র) অসহযোগিতার কারণে নূরকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে সে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও ‘মানবাধিকার’ গ্রাউন্ডে অবস্থান করছে।

তার অবস্থান প্রসঙ্গে বর্তমান হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান ইত্তেকাফকে বলেন, গত ২১ বছর ধরে এই খুনিকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে আগের হাইকমিশনারদের কার কি ভূমিকা ছিল, তা সবাই জানে। তারা শুধু চাকরিই করে গেছেন।

এদিকে আত্মগোপনে থাকা নূরকে নিয়ে লন্ডন-টরন্টোতে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিমূলক ও মিথ্যা খবর প্রচার করে যে, নূর কানাডাতে নেই; তিনি দীর্ঘকাল ধরে পূর্ব লন্ডনে এখলাস রহমান নাম ধারণ করে বসবাস করছেন, সেখানে একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন, হাজি পরিচয়ে ব্রিকলেনে মসজিদে নামাজ পড়েন ইত্যাদি ইত্যাদি। এস এইচ এম বি নূর চৌধুরীর নামে আন্তর্জাতিক রেড অ্যালার্ট রয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নূর বর্তমানে নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। তবে গত মাসে কে বা কারা প্রচার করে যে, নূর চৌধুরী মারা গেছেন। পরে টরেন্টো শহরের প্রতিদিনের মৃতদের তালিকা, রিচমন্ড হিল গোরস্থানে কবর দেওয়ার তালিকা, টরেন্টো পুলিশ, দূতাবাসসহ নানান সূত্রে জানা যায়- তার মৃত্যুর খবর সঠিক নয়।

গতকাল সরেজমিন খুনি নূর চৌধুরীর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তার ফ্ল্যাটের অদূরে লোহার দেওয়াল দেওয়া হয়েছে। যা আগে ছিল না এবং সেখানে পুলিশি টহল দেখা যায়।