কুষ্টিয়া শহরসংলগ্ন গড়াই নদীর ওপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতু রক্ষা বাঁধে হঠাত্ ধস নেমেছে। রবিবার ভোরে সেতুর ১২০ মিটার দূরে উত্তর-পূর্ব কোণে রাস্তাসহ সিসি ব্লকের ৪০ মিটার গাইড বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এ ভাঙনে নদী তীরবর্তী ঘরবাড়িগুলো পড়েছে চরম ঝুঁকিতে।
বাঁধ ধসে নদী পাড়ের রাস্তাটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মানুষ ও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভয়াবহ এ ধসের ঘটনার পর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং বাঁধ মেরামত নিয়ে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে শুরু হয়েছে রশি টানাটানি। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আছফার উদ্দিন জানান, সেতু ও গাইড বাঁধ নির্মাণ করেছে এলজিইডি বিভাগ। এছাড়া নদীর গাইড বাঁধ নির্মাণে যথাযথ ডাম্পিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। ফলে এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো দায় নেই বলে নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করেন। অপরদিকে কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মণ্ডল জানান, সেতু ও গাইড বাঁধ এলজিইডির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হলেও বাঁধ মেরামতে জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তাদের হাতে নেই।
তবে ধসে যাওয়া বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামতে বরাদ্দ চেয়ে সরকারি ঐ দুই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের স্ব স্ব বিভাগের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে ঐ দুই নির্বাহী প্রকৌশলী জানান। শিগিগরই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করা না হলে পানির চাপে তীব্র ভাঙনে নদী পাড়ের ঘরবাড়ি, সরকারি প্রাইমারি স্কুলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম জানান, বাঁধ ধসের কারণে যাতে বাড়তি কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। উল্লেখ্য, নদীবিভক্ত কুষ্টিয়া সদরের অন্তর্গত হরিপুর ইউনিয়নকে শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ২০১৭ সালে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত হয় কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু। পরে সেতুটির নামকরণ করা হয় শেখ রাসেল সেতু। এ সেতুর সুরক্ষায় দুই পাশে নির্মাণ করা হয় ৪০০ মিটার সিসি ব্লকের গাইড বাঁধ।
