রাজশাহীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে পুলিশের সঙ্গেই প্রতারণার চেষ্টা করেছিল তিন ব্যক্তি। তবে পিস্তলসহ তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল। আটককৃতরা হচ্ছে—নওগাঁর মান্দা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. জাকারিয়া (৩৫), একই উপজেলার বাংড়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে মো. সাগর (২২) এবং সাবাই গ্রামের সুনীল পণ্ডিতের ছেলে সুমন (৪০)। এদের মধ্যে জাকারিয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এই তিন প্রতারক পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের কাছে ফোন দিয়ে নিজেদের কখনো ডিআইজি, কখনো এসপি, কখনো এএসপি, কখনো থানার অফিসার ইনচার্জ অর্থাত্ পুলিশের সিনিয়র অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করত। এদের একজন ১৩ আগস্ট রাজশাহী জেলা পুলিশের কন্ট্রোলরুমের ল্যান্ডফোনে কল দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে মোহনপুর থানার ডিউটি অফিসারকে তার নম্বরে ফোন দিতে বলে। তখন জেলা পুলিশ কন্ট্রোলরুম মোহনপুর থানার ডিউটি অফিসারকে সেই নম্বরে ফোন দিয়ে কথা বলার জন্য বলে। সেই অনুযায়ী মোহনপুর থানার ডিউটি অফিসার ফোন দিলে প্রতারক চক্রের একজন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে থানার পাশে কোনো বিকাশের দোকান আছে কি না জানতে চায় এবং জরুরি প্রয়োজনে ০১৭০৬৩৮৩৩৩২ নম্বরে দ্রুত ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে।
বিষয়টি নিয়ে ঐ ডিউটি অফিসারের সন্দেহ হলে তিনি মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একথা জানান। ওসি বিষয়টি রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেনকে জানান। এসপি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বিকাশে টাকা পাঠাতে নিষেধ করেন এবং জেলা ডিবি পুলিশকে প্রতারক চক্রকে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করতে নির্দেশনা দেন। এরপর ঐদিন বিকালে জেলা ডিবির একটি দল নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাবাইহাট এলাকা থেকে তিন জনকে আটক করে। তাদের দেহ তল্লাশি করে একটি পুরাতন নোকিয়া মোবাইল ফোন, একটি পুরাতন ম্যাক্সটেল মোবাইল ফোন ও একটি জাল ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে প্রাপ্ত টাকা বিকাশের দোকান হতে উত্তোলনের সময় তারা জাল ভোটার আইডি কার্ডটি ব্যবহার করে।
