ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্র, সুখী পরিবার, মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অ্যাপোলো কনজিউমার প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লোভনীয় বেতনে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করত তারা। এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মো. ফিরোজ, আব্দুল কুদ্দুস, মাঈনুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, তৌকির আহমেদ ও কফিল উদ্দিন চৌধুরী। এদের মধ্যে ফিরোজ চক্রের মাস্টারমাইন্ড বলে জানিয়েছে পিবিআই। শুক্রবার ও শনিবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার মোহাম্মদপুর থানায় ফজলুল করিম নামে এক ভুক্তভোগীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল রবিবার রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় পিবিআইর অর্গানাইজড ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান।
তিনি বলেন, মহাখালীর স্বাস্থ্য বিভাগের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে দেশের প্রথম সারির কিছু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিত প্রতারক চক্রটি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ইমেল অ্যাড্রেস দেওয়া থাকত যেগুলোতে আগ্রহীরা সিভি পাঠাতেন। চাকরিপ্রার্থীকে একটি এসএমএসের মাধ্যমে চাকরি হয়েছে বলে কনফার্মেশন মেসেজ পাঠানোর পর বিকাশের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন বাবদ ১ হাজার ৯৪০ টাকা নেওয়া হতো। টাকা পাঠানোর পর চাকরি প্রার্থীকে এই প্রতারক চক্র মানি রিসিট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ও চূড়ান্ত নির্বাচিত হওয়ার ফরম ইমেইলে পাঠাত। এরপর ডিজিটাল আইডি কার্ড দেওয়ার কথা জানাত প্রতারকরা।
তিনি বলেন, বিনা মূল্যে ল্যাপটপ ও মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট দেওয়া হবে সেজন্য দ্বিতীয় দফায় আরো ৪ হাজার ৮০ টাকা দাবি করত চক্রটি। আবারও টাকা পাঠানোর পর চাকরিতে যোগদানের জন্য প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো এবং এক পর্যায়ে ঐ নম্বরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। ততক্ষণে ভিকটিম বুঝতে পারত তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এভাবে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে তারা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা নিত।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, তারা এ পর্যন্ত কতজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও প্রতারকদের দুটি বিকাশ নম্বরে গত তিন মাসে ১২ লাখ টাকা এসেছে। যা থেকে ধারণা করা যায় তারা কত মানুষকে প্রতারিত করেছে। তিনি বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পত্রিকার বিজ্ঞাপন শাখার কেউ এর সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট কয়েক জনের নাম আমরা পেয়েছি। যেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মোহাম্মদপুর থানার মামলায় রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পিবিআই।
