বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শাখায় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসিক ৫০০ টাকা হারে সরকার থেকে চিকিত্সাভাতা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে ৫০০ টাকা একজন এমবিবিএস ডাক্তারের ভিজিট নয়, কমপক্ষে ১০০০ টাকা প্রয়োজন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ফি, অপারেশন ফি এবং ওষুধ ক্রয়েও প্রচুর অর্থ লাগে। এজন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ফি, অপারেশন ফি, ওষুধ ক্রয় ও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা ফি সম্পূর্ণ ফ্রি অথবা একটি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা প্রয়োজন। সেটা সম্ভব না হলে ৫০০ টাকা চিকিত্সাভাতার পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা যেতে পারে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমায় মাসে ৫০০ টাকা বিমা সুবিধা পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে বছরে ৮৫ টাকা প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়, অর্থাত্ প্রতি মাসে ১০০ টাকা বিমা পাওয়ার জন্য মাসে ১ টাকা ৪০ পয়সা অফেরতযোগ্য প্রিমিয়াম জমা। চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারীর সর্বনিম্ন স্কেল ৮০০০ টাকা হিসাবে জীবনবিমা খাতে শতকরা ১ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে মাসে ১২০ টাকা ও স্বাস্থ্যবিমা খাতে শতকরা ০.৫০ টাকা হিসাবে মাসে ৪০ টাকা হিসাবে মোট ১৬০ টাকা মাসিক প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং একইভাবে সর্বোচ্চ পদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বেতন ৫০,০০০ টাকা হিসাবে জীবনবিমা খাতে শতকরা ১ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে মাসে ৭৫০ টাকা ও স্বাস্থ্যবিমা খাতে শতকরা ০.৫০ টাকা হিসাবে মাসে ২৫০ টাকা হিসাবে মোট ১০০০ টাকা মাসিক প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা যায়, এক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিমার অফেরতযোগ্য প্রিমিয়মের সম্পূর্ণ টাকা সরকারকেই বহন করতে হবে এবং মেয়াদ পূর্তির পর শিক্ষক-কর্মচারী বিমার কোনো অর্থই ফেরত পাবেন না। শুধু শিক্ষক বা কর্মচারীর মৃত্যু হলে এবং দুর্ঘটনাজনিত কারণে স্থায়ী অক্ষমতার কারণে চাকরি হারালে সর্বশেষ বেতন গ্রেডের সমপরিমাণ টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর বৈধ নমিনি প্রতি মাসে পাবেন; তবে এ সুবিধা ঐ শিক্ষক-কর্মচারীর বয়সের ৬০ বছর অর্থাত্ চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। কোনো শিক্ষক-কর্মচারী দুর্ঘটনায় অঙ্গহানির ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুত না হলে অতিরিক্ত সুবিধা হিসাবে তাঁর বেতন স্কেলের অর্ধেক পরিমাণ টাকা চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত পাবেন। দুর্ঘটনাজনিত চিকিত্সাব্যয় পূরণের জন্য শিক্ষক-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যের ক্ষেত্রে বারো মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা প্রাপ্ত হবেন। পরিশেষে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শাখায় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন ও স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনার জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
রিপন কুমার দাস
ট্রেড ইন্সট্রাক্টর,
ডোনাভান মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
পটুয়াখালী
