বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন দেশে জ্বালানি তেলের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে গতি নেই। প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর ইতিমধ্যে প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ভূমি সংস্থানসহ যাবতীয় কাজ শেষ করার পরও প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) এ পর্যন্ত ১০ দফা সংশোধন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, সর্বশেষ সংশোধিত ডিপিপি গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এছাড়া প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে আরো কিছু জটিলতা রয়েছে বলেও বিপিসির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়। তবে সূত্রমতে, বিপিসি উদ্ভূত জটিলতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জানা যায়, ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে সরকার অনুমতি প্রদান করে। দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির মুখে দ্বিতীয় ইউনিটটি যথাসম্ভব দ্রুত নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনে ফিজিবিলিটি টেস্টে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে। কিন্তু দফায় দফায় সময় গড়িয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির ব্যয়ভার সর্বশেষ সংশোধিত উন্নয়ন প্রস্তাবে এসে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প ব্যয় নির্বাহে সরকারি (জিওবি) ২০ শতাংশ আর বিপিসির পক্ষ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থায়ন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিপিসিকেই সম্পূর্ণ অর্থায়ন করতে হবে বলে সূত্রটি আভাস দেয়। বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের বাত্সরিক চাহিদা ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে গত অর্থবছর ইস্টার্ন রিফাইনারির চালু ১ নম্বর ইউনিটটি মাত্র ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৪৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানির জোগান দিতে সক্ষম হয়। বাকি প্রায় ৪৯ লাখ মেট্রিক টন বিপিসিকে আমদানি করতে হয়।
বিপিসির পরিচালক অপারেশন সৈয়দ মেহেদি হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিপিসি এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে প্রকল্পটি যথাসম্ভব দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রকল্পটিতে সরকারি তরফে ২০ শতাংশ এবং বিপিসির পক্ষ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থায়নের সিদ্ধান্তটি এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে বিপিসি যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই ব্যাপক অর্থে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ে শতভাগ সরকারি অর্থায়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে বলা যায়।
অন্যদিকে বিপিসির উপব্যবস্থাপক প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের ২০ শতাংশ অর্থ বিদেশি বিনিয়োগ থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী চলমান কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে বিদেশি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিপিসিকে আবারও এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করতে হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধিত প্রস্তাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়ভার ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এই ডিপিপি গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এখন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের শতভাগ ব্যয়ভার বিপিসিকেই বহন করতে হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এটি শিগগিরই অনুমোদিত হয়ে আসবে।
মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটের উত্পাদনক্ষমতা হবে বছরে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন। ফলে বিপিসির শোধিত জ্বালানি আমদানি বহুলাংশে কমে যাবে। কেননা, দেশের ভেতরেই মোট উত্পাদন দাঁড়াবে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির নিজস্ব ২০০ একর ভূমি রয়েছে। নতুন ইউনিটটি নির্মাণের জন্য আরো ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কাজেই এখানে ভূমির কোনো সমস্যা নেই।
