তালেবান আফগানিস্তান দখল করার পর সেখানে আটকে পড়া প্রায় ৪৫ হাজার মানুষকে উদ্ধারের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব মানুষ গত ২০ বছর মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীকে নানাভাবে সহযোগিতা করে এসেছেন। এদের মধ্যে আছেন দোভাষী, অনুবাদক, দূতাবাসের কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্য, নারীনেত্রী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সমকামীরা। তারা বিপন্ন বোধ করছেন। আতঙ্কে এবং গ্রেফতারের শঙ্কায় এখন তারা দেশত্যাগ করতে চাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করে তৃতীয় কোনো নিরাপদ দেশে অথবা সামরিক ঘাঁটিগুলোতে রাখতে চায়। সেখানে রেখে নতুন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদানের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এসব আফগান নাগরিককে তৃতীয় কোনো দেশে ১২ থেকে ১৪ মাস থাকা লাগতে পারে। বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পাওয়া এই প্রস্তাব নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও গারুদা ইন্দোনেশিয়া ও এয়ার এশিয়াকেও কাবুল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব মানুষের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কি না, তা বলা হয়নি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ততৃীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলেও বিমান এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি। আফগানিস্তানে ফ্লাইট পরিচালনা করতে বলছে। তবে কোনো দেশ বা সংস্থা থেকে বিমানকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব দেয়নি। এখানে টেকনিক্যাল বেশ কিছু বিষয় আছে। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আনুষঙ্গিক বিষয় পরীক্ষানিরীক্ষা করছি।
