চট্টগ্রামে একজনের পরিবর্তে নিরপরাধ মিনুর সাজাভোগ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর ঘটনায় করা দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। এরা হলেন—চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার এসআই জুবায়ের মৃধা ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই খোরশেদ আলম। আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর তাদেরকে দুটি মামলার কেস ডকেটসহ (সিডি) আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কেস ডকেটে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি কুলসুমীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, নিহত মিনুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট রয়েছে। এ সংক্রান্ত এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি এম আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। এছাড়া কয়েদি শনাক্তে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর প্রশ্নে জারিকৃত রুলের জবাব এ সময়ের মধ্যে দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট সচিবদেরকে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রামে এক গার্মেন্টস কর্মী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। কিন্তু তার পরিবর্তে জেল খাটেন মিনু বেগম। বিষয়টি গত মার্চ মাসে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারকের নজরে আনেন সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরে মিনুকে আদালতে হাজির করে তার বক্তব্য রেকর্ড করে আদালত। কিন্তু যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আপিল উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে নথি সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দেন। পরে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মো. শিশির মনির। এরপর হাইকোর্ট মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। পরে তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পান। কিন্তু গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামে গাড়ি চাপায় মৃত্যু হয় মিনুর।
গতকাল বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন রিটকারী আইনজীবী মো. শিশির মনির। তিনি বলেন, আদতে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত হিসাবে দেখা গেলেও অনেকেই বলছেন এটা একটি হত্যাকাণ্ড। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিনুকে হয়তো হত্যা করে থাকতে পারে। মিনুর জেলখাটা ও হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রকৃত আসামি কুলসুমা আক্তার কুলসুমীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, নিহত মিনুর সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে। জবানবন্দি ও দুটো রিপোর্ট আমি চেয়েছিলাম। কিন্তু কনফিডেন্সিয়াল (গোপনীয়) হওয়ায় তারা তা আমাকে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ এসব নথিতে কি আছে তা হাইকোর্টের জানা দরকার। এরপরই হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী এবং তলবকৃত আইনজীবীদের পক্ষে মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী শুনানি করেন।
