জাতির পিতাকে হত্যাকারী ও হত্যার পটভূমির স্রষ্টারা সমান অপরাধী :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ২৩:০২

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা জাতির পিতার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যারা এই হত্যাকারীদের পাশে ছিল এবং যারা এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি তৈরি করেছিল এরা সবাই সমান দোষী। আগে খুনিদের বিচার করা জরুরি ছিল, সেটা আমরা করেছি। এখন সময় এসেছে বাকিদের বিচারের। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই স্মরণ সভায় তিনি আরো বলেন, এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ঘরে যখন আলো জ্বলবে, প্রত্যেকের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে, তখন ষড়যন্ত্রকারীদের এই হত্যার উচিত জবাব দেওয়া হবে। বক্তব্যের শুরুতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহিদ হওয়া সব শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। জাতির পিতা ছাড়াও একে একে কীভাবে      নিজের স্বজন ও অন্যদের হত্যা করা হয় সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ১৫ আগস্ট ও তার পরবর্তী সময়ে নিহত হওয়া সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

এ সময় দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একটা মানুষ তার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন দেশের মানুষের জন্য। তিনি শুধু দেশের মানুষের কথা ভাবতেন। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা তখনকার পত্রপত্রিকাগুলো পড়লেই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। একটা বিধ্বস্ত দেশ গড়তে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যায়, সেখানে একটি বছরও সময় দেওয়া হলো না, সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা শুরু হলো। ধৈর্য না ধরে নানা সমালোচনা, নানা কথা লেখা হলো। কারা এগুলো লিখেছিল, কাদের খুশী করতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য গ্রাউন্ড প্রস্তুত কারা করছিল? আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশিদের বিবিসিতে প্রদত্ত ইন্টারভিউর উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঘৃণাভরে স্মরণ করেন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও ষড়যন্ত্রকারীদের। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব বাকি কাজটুকু শেষ করার। আমাদের যে গ্লানি আছে, তা মুছে ফেলতে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আমরা শাস্তির আওতায় নিয়ে আসব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ’৭৫-এর ১৫ আগস্টে শহিদ জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাদের পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্যদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।