ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর

দেশে প্রতি মাসে সিনোফার্মের ৪ কোটি টিকা উত্পাদিত হবে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ২৩:০৪

চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড-সিনোফার্মের করোনা ভ্যাকসিন বাংলাদেশেই উত্পাদনের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে।  গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর বিসিপিএস অডিটোরিয়াম হলে সিনোফার্ম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে সিনোফার্মের ৪ কোটি টিকা দেশে উত্পাদন হবে। তবে উত্পাদনে যেতে আরো তিন মাস সময় লাগবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র।  কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চীন সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে বন্ধুর মতো হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের চীন-বাংলাদেশ ভ্যাক্সিন চুক্তির মাধ্যমে দেশে ভ্যাক্সিনের ঘাটতি মেটাতে চীন আরেক বার তার বন্ধুত্বের গভীরতা প্রমাণ করেছে। এই চুক্তি দেশের জন্য এক বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাক্সিনের আওতায় আনতে আজকের এই চুক্তি বিরাট ভূমিকা পালন করবে এবং দেশে ভ্যাক্সিনের আর কোনো ঘাটতি থাকবে না। তবে ভ্যাক্সিন উত্পাদন কার্যক্রম পুরোপুরি শুরুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য ভ্যাক্সিন উত্পাদনকারী      দেশের কাছ থেকে ভ্যাক্সিন গ্রহণের কাজ চলমান রাখবে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ খুব তাড়াতাড়ি দেশেই ভ্যাক্সিন উত্পাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরো জানান, ‘দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় ৩ কোটি ডোজ ভ্যাক্সিন চলে এসেছে। যা থেকে ১ম ধাপে দেড় কোটি ডোজ এবং ২য় ধাপে ৫৪ লাখ ডোজ মানুষ গ্রহণ করেছে। অবশিষ্ট ১ কোটি ডোজ ভ্যাক্সিন এই মুহূর্তে দেশে মজুত আছে। এ মাসের ২২ তারিখের পর চীন থেকে সিনোফার্মের আরো ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাক্সিন দেশে আসবে। চীনের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকেও আরো ভ্যাক্সিন নেওয়া হবে। সুতরাং ভ্যাক্সিন নিয়ে আগামীতে আরো কোনো ঘাটতিতে থাকবে না বাংলাদেশ।’

দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাক্সিন দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ১৩ কোটি মানুষের জন্য মোট ২৬ কোটি ভ্যাক্সিন প্রস্তুত রাখতে হবে। এই বিশাল সংখ্যক ভ্যাক্সিন চাহিদা পূরণ করতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আজকের এই চুক্তিটি অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের সঙ্গে চুক্তিসহ কোভিড মোকাবিলায় সব কাজে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে এই ভ্যাক্সিন কার্যক্রম শুরু করতে সরকার দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছে। আজ সেই স্বপ্নপূরণ হলো। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশেই কোভিড ভ্যাক্সিন উত্পাদন হবে এবং খুব দ্রুতই দেশে আবারও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হবে।