বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে ভারতের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাত্ করতে গেলে মোদী এই কথা জানান। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নতুন মেয়াদে এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে ভারত। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় ড. মোমেনকে অভিনন্দন জানান এবং প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নেওয়ার প্রশংসা করেন মোদী। এদিকে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ-ভারত যৌথপরামর্শমূলক কমিশনের (জেসিসি) পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।
চারদিনের সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন গত বুধবার নয়াদিল্লি পৌঁছান। গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত্কালে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক এখন বিশ্বে প্রতিবেশী দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য মডেল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, দুই দেশ শান্তিপূর্ণভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান করেছে যার প্রশংসা জনগণ করেছে। ভারত রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা দেওয়ায় মোদীকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুতে সহযোগিতা করার জন্য মোদীকে অনুরোধ করেন তিনি। এক্ষেত্রে ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং সহযোগিতা করে যাবে বলে আশ্বাস দেন মোদী।
এদিকে আজ শুক্রবার জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। অন্যদিকে ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, কানেকটিভিটি (সংযোগ), সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি ও বিদ্যুত্ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি-সহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি এমওইউ সই হবে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই), রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং ভারতের প্রসার ভারতী এবং দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতে এমইইউ সই হবে। এছাড়া মংলা বন্দরের কাছে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং সরকারি চাকরিজীবীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে এমওইউ সই করবে দুই দেশ।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন গতকাল ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলের উপনেতা আনন্দ শর্মার সঙ্গে সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। তারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার চমত্কার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মনমোহন সিং অভিনন্দন জানান।
