ফাস ফিন্যান্সের ১২ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ০০:২৭

ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ প্রদান করে ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে এসব ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক পি কে হালদারের দায় আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পি কে হালদারের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তকালে ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদকের কর্মকর্তারা। যে ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন—এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়াজ আহমেদ ফারুকী, দিপক কুমার চক্রবর্তী, সাবেক এসভিপি এবং করপোরেট ফিন্যান্স অ্যান্ড রিকভারি এবং আইন বিভাগের প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, প্রিন্সিপাল শাখা ব্যবস্থাপক তানভির আহমেদ কমল, আইসিসি অ্যান্ড রিকভারি হেড এবং ভিপি মো. মনির হোসেন, সিনিয়র অফিসার মিসেস মৌসুমী পাল, ম্যানেজার আহসান রাকিব, সাবেক সিনিয়র অফিসার মিসেস তাসনিয়া তাহসিন রোজালিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেপুটি ম্যানেজার ও করপোরেট ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান মীর ইমাদুল হক, সাবেক ভিপি এবং সিএফও মো. মনিরুজ্জামান আকন্দ, মো. সাবেক এসভিপি আজিমুল হক এবং সাবেক এসইভিপি এবং সিএডির প্রধান প্রাণ গৌরাঙ্গ দে।

দুদক সূত্র বলছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিপাকে পড়ে। এই টাকা আর ফেরত আসে না। গ্রাহকের আমানতের টাকা দিতেও হিমশিম খায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। পরে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ব্যাংক দুদকের একটি প্রতিবেদন পাঠায়। ঐ প্রতিবেদনের আলোকে অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধানে দুদক টিম প্রমাণ পায়, ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তাসহ একটি চক্র ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি থেকে ধাপে ধাপে ঋণ জালিয়াতি করে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাত্ করে। চক্রটি ভুয়া এবং নামসর্বস্ব ২০টি প্রতিষ্ঠানের প্যাড বানিয়ে ঋণ আবেদন করে। ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি: এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অসত্ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে কোনোরূপ যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং কোনো মর্টগেজ গ্রহণ না করেই ঐ ২০টি কাগুজে প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করে। এই ঋণ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম গতকাল ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কর্মকর্তারা দুদককে জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদসহ ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একে একে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ আরো যারা অর্থ আত্মসাতে জড়িত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আসল ঘটনা উদ্ঘাটনে আইনগত সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।