একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দলের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন শনিবার একই সময় ও একই স্থানে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের আরেকটি সভাও অনুষ্ঠিত হবে। দুইটি সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৈঠক দুটিতে সংশিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য তৃণমূলের সুপারিশ পাঠানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপি ও জেলার প্রভাবশালী নেতাদের প্রভাব খাটানোর ৮ শতাধিক অভিযোগ কেন্দ্রে জমা পড়েছে। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা পড়া এসব অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, দলের মনোনয়ন বোর্ড অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রস্তাব ছাড়াও তিনটি সংস্থার সার্ভে রিপোর্ট থাকবে, সেগুলো আমরা মিলিয়ে দেখব। এখানে কার ভাই, কার বোন, কার ছেলে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উইনেবল ও জনপ্রিয় প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাবেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৪ মার্চ ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৪৩টিতে প্রার্থী মনোনয়নের খসড়া তালিকা করেছে আওয়ামী লীগ। এই পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৫১০ জন। গত ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ফরম বিক্রি করে দলটি। এতে আওয়ামী লীগের আয় হয় ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ত্যাগী ও দলের জন্য অবদান আছে- এমন প্রার্থীদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ নির্বাচনে অংশ নিতে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে।
এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, উপজেলা কমিটির বর্ধিত সভা থেকে এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যন পদে মনোনয়নের সুপারিশ পাঠানোর কথা। তার ভিত্তিতেই কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার নিয়ম। সেই অনুযায়ী, তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই ঢাকায় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু অনেক জায়গায় এমপিরা প্রভাব খাটিয়ে একক নাম পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠলে সেই ব্যবস্থা বদল করা হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্দেশনা দেন, মনোনয়নের সুপারিশ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। এরপর যারা লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন, আর সুপারিশের তালিকায় নাম না থাকলেও তাদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয় মঙ্গলবার। বুধবার থেকে মনোনয়ন ফরম তোলার বিষয়টি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ৮ শতাধিক অভিযোগ দপ্তরে জমা পড়েছে। অনেক উপজেলা থেকেই একাধিক অভিযোগ এসেছে। জেলা-উপজেলা নেতাদের বিরুদ্ধে ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও বিতর্কিত এবং নিজেদের পছন্দের কিংবা আত্মীয়-স্বজনকে প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে নাম পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী স্থানীয় এমপিদের হস্তক্ষেপেও কোথাও কোথাও দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সবমিলিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে তৃণমূলের প্রায় সর্বত্র দ্বন্দ্ব-কোন্দল ছড়িয়ে পড়েছে। দলের হাইকমান্ডের কাছেও এসব অনিয়মের খবর পৌঁছে গেছে।
এদিকে আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে দল সমর্থিত একক প্রার্থীও আজ চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। গত ২৮ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাশী ৮ শতাধিক নেতার সাক্ষাত্কার নিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সাক্ষাত্কার শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা সংক্ষিপ্ত তালিকা ইতিমধ্যে দলের সভানেত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন।
