অমর কথাসাহিত্যিক শরত্চন্দ্র তাঁর উপন্যাসের চরিত্র শ্রীকান্তকে সন্ন্যাস জীবন থেকে সংসার জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মশার জন্যই। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ১৯২৬-২৭ সালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কঠিনভাবে শয্যাশায়ী ছিলেন। তাই বলা যেতে পারে, বাংলা সাহিত্যে সবসময়ই মশা এক স্মৃতিকাতর প্রাণী হয়ে থাকবে। মশা এমন এক প্রাণী, আকারের দিক থেকে অনেক ছোট হলেও বনের হিংস্র প্রাণীদেরও হার মানায়। জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার দেখা গেছে, গত দশ হাজার বছর ধরে পৃথিবীর হিংস্র প্রাণী বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, বিষাক্ত সাপ, কুমির মানুষকে আক্রমণ করে যত হত্যা করেছে, তার চেয়ে কয়েক হাজারগুণ বেশি জীবন নাশের শিকার হয়েছে মানুষ মশার আক্রমণে।
ছোট্ট এই প্রাণীটির বিরুদ্ধে পৃথিবীর অনেক দেশই নিধনযজ্ঞ চালিয়েও আজ পর্যন্ত শতভাগ সফলতা অর্জন করতে পারেনি। ডেঙ্গু ভাইরাসটি এতোটাই ভয়ংকর—আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই রক্তের প্লাটিলেট একেবারে কমিয়ে দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। চারপাশ আবর্জনামুক্ত রাখার বিকল্প নেই। ছাদবাগানে, ঘরের ভেতর, ওয়াস রুমে, বেলকনিতে কোনোভাবেই পেয়ালা কিংবা টবে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। করোনাকালে সবাই নিজেদের সুরক্ষায় রাখি, মশার কামড় থেকে বাঁচি।
কাউসার আহমেদ তুষার
