এসি-ডিসি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ১৯:৪৯

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক

সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

আজ অফিস থেকে ফিরতেই কমলা কোনও মন খারাপ করা খবর দিলেন না। বরং খুশির খবর দিলেন-বাংলাদেশেই নভেল করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করে ফেলেছে।

হ্যাঁ, গ্লোব ফার্মাসিটিক্যালস এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান  গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড এর প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ এই খবর দিতে গিয়ে একেবারে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। টিকা উদ্ভাবনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাঁকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা। ডা. আসিফ বলেন—তিনটি খরগোশের ওপর এই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়েছে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পেরেছে। দ্বিতীয় ধাপে অ্যানিমেল ট্রায়ালে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে। ৮ সপ্তাহের পর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাবার জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি পেলে ট্রায়ালে যাবে এবং সফল হলে ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে বাজারে টিকা পাওয়া যাবে।

তাহলে তো বাংলাদেশের একটা বিরাট সাফল্য। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বসে নেই, বললেন নীলকান্তবাবু। এর আগে গণবিশ্ববিদ্যালয়-এর অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. বিজন কুমার শীল এর নেতৃত্বে করোনা সনাক্তকরণ কিট ‘জি র্যাপিড ডট ব্লট’ উদ্ভাবন করা হয়। তাঁর সাথে অন্যান্য বিজ্ঞানীগণ হলেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ ।

হ্যাঁ, বললেন কমলা। বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও আছে, বললেন নীলকান্তবাবু। নভেল করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স এনালাইসিসও করেছে বাংলাদেশ।

জিনোম সিকোয়েন্সটা কী ? বললেন কমলা।

এটি হচ্ছে কোনও উদ্ভিদ বা প্রাণীর জিন গবেষণা। জিন বিশ্লেষণ করে এর বৈশিষ্ট্য, ধরণ, গতিপ্রকৃতি ইত্যাদি জানা যায়। চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. সমীর কুমার সাহা ও তাঁর মেয়ে ডা. সেঁজুতি সাহার নেতৃত্বে ৮ জনের গবেষক দল বাংলাদেশে প্রথম এই কাজ করলেন। এরপর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উদ্ভাবন করে। যবিপ্রবির উপাচার্য ড. মো. আনোয়ার হোসেন-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক এই কাজটি করেন। এই দলে আমাদের বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের নেতা অধ্যাপক ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলামও ছিলেন। এই গবেষণার ফলাফল বিশ্বখ্যাত জিনোম ডাটাবেস সার্ভারে জমা হয়েছে। সারা বিশ্বে ১৬৪৫১ টি জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই জমা হয়েছে ৭৬ টি।

কমলা বললেন, খুবই ভালো খবর। একদিন এভাবেই করোনাকে পরাস্ত করতে পারব আমরা। আচ্ছা তুমি ওয়াশরুমে চলে যাও, পরে গল্প করব। এই ফাঁকে তিনি একটা বাটিতে অনেকগুলো আম এনে দিলেন। ক্ষিরসাপাত, খুবই মিষ্টি এই আম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নীলকান্তবাবুর বন্ধু এবং ব্যাচমেট, সেখানকার জেলা প্রশাসক নুরুল হক সাহেব পাঠিয়েছেন। আম খেতে খেতে গল্প শুরু হবে।

ওয়াশরুম থেকে এসে নীলকান্তবাবু বললেন, আজ খুব গরম পড়েছে। টেম্পারেচার ৩৩ ছাড়িয়েছে মনে হচ্ছে। বিন্দু বলল, আমাদের রুমে এসি লাগিয়ে দাও না বাবা।

নীলকান্তবাবু হাসলেন, বললেন এসি লাগাতে হবে ?

বিন্দু চুপ করে থাকল। বাবার কাছে এসির বায়না ধরায় একটু লজ্জা পেলো মনে হচ্ছে।

নীলকান্তবাবু বললেন-এসি কী?

এয়ার কন্ডিশনার, বলল বিন্দু।

আরও একটা এসি আছে, অলটারনেটিং কারেন্ট।

এটা আবার কী? সীমা বলল।

                পরের অংশ আগামীকাল