বিবিসি ও রয়টার্স
হাইতিতে গত শনিবারের ৭ দশমিক ২ মাত্রার ঐ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪১৯-এ দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের সন্ধানে তত্পরতা চালাচ্ছেন, তখনই একটি ঝড় হাইতির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে তুমুল বৃষ্টি ঝরিয়েছে। ভারী বর্ষণে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকার কাছে দেখা দেওয়া বন্যা মানবিক সংকটকে তীব্রতর করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বন্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেকমেল এলাকার রাজনীতিক ডিউস ডেরোনেথ। শহরের মধ্য দিয়ে বন্যার পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে—টুইটারে এমন ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। ভূমিকম্পে অর্থনৈতিকভাবে নাজুক দেশটির হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে। ক্যারিবীয় এই দেশ এখনো ১১ বছর আগের আরেকটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধকল সামলে উঠতে পারেনি। ২০১০ সালের ঐ ভূমিকম্প দেশটির ২ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। সর্বশেষ ভূমিকম্পে অসংখ্য চার্চ, হোটেল, বাড়ি ও স্কুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বা ধসে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে হাইতি কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পে ১ হাজার ৪১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ৬ হাজার ৯০০ জনের মতো আহত এবং ৩৭ হাজার ৩১২টি ঘর ধ্বংস হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বিপর্যস্ত লি কাইয়ে শহর ও এর আশপাশ এলাকার হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে রোগীর মারাত্মক চাপ। এই হাসপাতালগুলোর বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবারও শহরটির সরকারি হাসপাতালে উপচে পড়া রোগীর ভিড় দেখা গেছে। ভেতরে জায়গা না পেয়ে পার্কিং লটের তাঁবুতে থাকা রোগীদের সেবা দিতে ছুটছেন চিকিত্সক ও নার্সরা। বাইরে ঘাসের ওপর বিছানো ম্যাট্রেস ও বিছানায়ও অসংখ্য মানুষ শুয়ে আছে।
সোমবার পোর্ট আ প্রিন্সের বিমানবন্দরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যেতে চাওয়া বিপুলসংখ্যক চিকিত্সক ও সাহায্যকর্মীকে দেখা গেছে। ভূমিকম্পে কিছু এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি লি কাইয়েতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় শহরটিতে সড়কপথে সহজে যাওয়াও যাচ্ছে না। অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা দিয়ে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যেতে ‘মানবিক করিডর’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
