ডেঙ্গুর প্রকোপ লাগামহীন

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২০:৫৩

করোনা মহামারির মধ্যেই লাগামহীনভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি মৌসুমে এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক ৩২৯ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ভর্তি ৩২৯ রোগীর মধ্যে ৩০৬ জন ঢাকার। আর বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ রোগী। এ নিয়ে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৪। হাসপাতালে মোট ভর্তি ১ হাজার ১১৪ জনের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ১ হাজার ৪৮ ও ঢাকার বাইরে ৬৬ জন ভর্তি রয়েছেন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্ট মাসের ১৭ দিনে ৩ হাজার ৯৯২ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত জুলাই মাসেই ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ২৮৬ ডেঙ্গু রোগী। তার আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৭২ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু সন্দেহে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের গত কয়েক দিনেই মারা গেছেন ১৪ জন। জুলাইতে মারা গেছেন ১২ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৫০ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৫১০ জন।

এদিকে দুই সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু দমনে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখলেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সিটি করপোরেশন বলছে, নগরবাসী সচেতন না হলে এটি আরো বাড়বে। কারণ জমা হওয়া পানি থেকে এডিসের লার্ভা তৈরি হয়। যার কারণে সিটি করপোরেশনের তত্পরতার পাশাপাশি নাগরিকদেরও এ পানি ফেলে দিতে হবে। আর এতেই ডেঙ্গু কমে আসবে। বাংলাদেশে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি মানুষ। তবে জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর—এই চারটি মাসকে ডেঙ্গুর মূল মৌসুম বলা হয়। সেই অনুযায়ী বর্তমানে চলতি আগস্ট মাসে প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে হাসপাতালে। ঘন ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরের ভেতরে ও বাইরে দুই জায়গায় এডিস মশা জন্মাচ্ছে। ঘরের বাইরে ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবন, বিভিন্ন খালের জমা পানি, ঘরের ভেতরে খালি পাত্রে জমে থাকা পানিতে এ মশা জন্ম নিয়ে ছড়িয়ে দেয় ডেঙ্গু রোগ। এ বিষয়ে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, সিটি করপোরেশনকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে এডিসের লার্ভা ধ্বংসে চিরুনি অভিযানের পাশাপাশি ওষুধ ছড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক ভাগ করে মশক দমনে কাজ করতে হবে। এটি তদারকির জন্য আলাদা টিম গঠন করতে হবে ওয়ার্ড অনুযায়ী।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত, সরকারি কিংবা বেসরকারি যে কোনো স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নগরবাসীর কল্যাণে উত্তর সিটির ৪৬টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফ্রি ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিজেদের সুস্থতার জন্যই ‘দশটায় দশ মিনিট, প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এ স্লোগান বাস্তবায়ন করতে হবে।