চিকিত্সকসহ জনবলসংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২১:১৩

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

দুই জন ডাক্তার দিয়ে চলছে চর রাজিবপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা কার্যক্রম। নেই কোনো বিশেষজ্ঞ বা কনসালট্যান্ট। সংকট রয়েছে প্রয়োজনীয় জনবলের। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীদের। রোগীর অবস্থা একটু খারাপ হলেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ময়মনসিংহ ও ঢাকায়। এছাড়া বন্ধ রয়েছে প্রসূতি মায়েদের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া এ হাসপাতালে ৯ জন বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট পদ থাকলেও নেই এক জনও। ২৭ জন চিকিত্সক পদ থাকলেও আছেন মাত্র দুই জন। এই দুই জন ডাক্তার রোটেশন করে দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়োজনের চেয়ে নার্সও অনেক কম রয়েছে। ক্যাশিয়ার, ফার্মাসিস্ট, কম্পাউন্ডার, সহকারী নার্স, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, ওয়ার্ডবয়, আয়া, কুক, নিরাপত্তা প্রহরী, ঝাড়ুদার, মালিসহ অনেকগুলো পদ শূন্য রয়েছে। মোট ১৬৯ জন জনবলের মধ্যে রয়েছে ৫৫ জন। ফলে এক তৃতীয়াংশের কম জনবল দিয়ে চলছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এছাড়াও প্রায় এক যুগ ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এক্সরে মেশিন। হয় না ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম।

সূত্র আরো জানায়, গত বছর করোনা মহামারি শুরুতে পাঁচ শয্যা নিয়ে করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়। যা বর্তমানে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার। কিন্তু সেখানে সরঞ্জামের অভাব এখনো রয়েছে। শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অক্সিজেনসহায়তা অপরিহার্য হলেও এ হাসপাতালে এখনো জরুরি হাইফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা চালু হয়নি। সিলিন্ডার অক্সিজেনের সরবরাহও অপ্রতুল। হাইফ্লো ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা না থাকায় করোনা রোগীদের যেতে হচ্ছে ময়মনসিংহ ও ঢাকায়।

রাজিবপুর ইউনিয়নের টাঙ্গালিয়াপাড়া গ্রাম থেকে চিকিত্সা নিতে আসা বাদশা (৬০) জানান, ‘শ্বাসকষ্ট আর গলাব্যথা নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু শ্বাসকষ্টে থাকতে পারি না। দম আটকে যাচ্ছে। এখনো অক্সিজেন দেয় নাই।’ মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে আসা রহিম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার ছেলের পেটের ব্যথা থাকায় তিন দিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখনো অসুখ ভালো হয় না। অনেক ওষুধ বাইরে থেকে কিনে খাওয়ানো হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান বলেন, ‘চিকিত্সকসহ জনবল সংকট অনেক আগে থেকেই আছে। আমরা বারবার চাহিদা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ডাক্তার পাচ্ছি না। সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে ওষুধ সংকট নেই।’ এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আশা করছি নতুন নিয়োগে ডাক্তার ও জনবল সংকট সমাধান হবে। আর উপজেলা পর্যায়ে এখন আর হাইফ্লো ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা হচ্ছে না।’