ঝিনাইদহে সারের অভাবে আমন চাষ ব্যাহত

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২১:১৩

বিপাকে কৃষক

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

রোপা আমন চাষের ভরা মৌসুমে ঝিনাইদহে সারের অভাব দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ সার ডিলাররা সার দিতে পারছে না। সার পরিবহনে অব্যবস্থাপনার কারণে এ অভাব দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে কালোবাজারে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ১১৫ হেক্টরে জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চাষ হয়েছে ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন চারা রোপণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চারা রোপণের ১৫ দিন পর ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু কৃষকরা প্রয়োজনমতো সার পাচ্ছে না।

শৈলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক রঞ্জু মৃধা জানান, ১৩ বিঘা জমিতে রোপা আমন ও আট বিঘাতে কলাচাষ করেছেন। এখন সারের প্রয়োজন। কিন্তু ডিলাররা সার সরবরাহ করতে পারছে না। এতে চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এ কৃষক। একই উপজেলার রাবইপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাবিক বলেন, চার বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। গত শনিবার তিনি শৈলকুপায় বিসিআইসির ডিলার গোলাম নবী, নিধির কুমার সাহা ও আলম মোল্লার ঘরে সার কিনতে যান। কিন্তু তারা সার নেই বলে জানান। পরে ৮৫০ টাকা দরে দুই বস্তা ইউরিয়া সার কালোবাজার থেকে কিনেন। এতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তায় ৫০ টাকা করে বেশি দাম দিতে হয়েছে।

সার ডিলার আলম মোল্লা বলেন, আগস্ট মাসে তাকে ১০০ টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ১৮ টন সরবরাহ পেয়েছেন। নিধির কুমার সাহাও একই কথা বলেন। ঝিনাইদহ জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আগস্ট মাসে ঝিনাইদহ জেলায় ৭ হাজার ৮৫১ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ১৬ হাজার ৯২২ টন। জুলাই মাসে জেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৫৯১ টন। দেওয়া হয় ৪ হাজার ৯২৪ টন। তবে তিনি সারের অভাবের কথা স্বীকার করেন।

কালীগঞ্জের সারের বাফার গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়। বাফার গুদামের কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান বলেন, আগস্ট মাসে ঝিনাইদহ জেলায় ৭ হাজার ৮৫১ টন ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩ হাজার ৯৭৪ টন সার বরাদ্দ করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার টন এসে পৌঁছেছে। বাকি সার এখনো পৌঁছায়নি। রবিবার ১ হাজার টন সার গুদামে মজুত ছিল বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক ও জেলা সার মনিটরিং কমিটির সম্পাদক মো. আজগর আলি বলেন, যশোরের নওয়াপাড়া নদী বন্দরে এসে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে সারের সাময়িক অভাব দেখা দিয়েছে। আগস্ট মাসে বরাদ্দকৃত ৭ হাজার ৮৫১ টনের মধ্যে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ টন সার ডিলারদের সরবরাহ করা হয়েছে।