বিজিএমইএর প্রস্তাবে বিকডার আপত্তি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২১:১৯

চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে সব আমদানি পণ্য খালাসের দাবি

সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা আমদানি পণ্য খালাস নিয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বেসরকারি আইসিডি মালিকদের এসোসিয়েশন বিকডা ভিন্নমুখী অবস্থান নিয়েছে। গার্মেন্টস মালিকরা বলছেন, বেসরকারি আইসিডি থেকে পণ্য খালাসে সময় ও অর্থ  দুটোই বেশি লাগছে। তাই তারা পূর্বের ন্যায় বন্দর জেটি থেকে সব পণ্য খালাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসকে প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এতে আপত্তি জানিয়েছে বিকডা। তারা বলছে, বিজিএমইএ খরচ ও সময়ের যে হিসাব দেখিয়েছে সেটা ঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দরের চাপ কমাতে পর্যায়ক্রমে সরকার সকল রপ্তানি পণ্য বেসরকারি আইসিডির মাধ্যমে জাহাজীকরণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এছাড়া আমদানি পণ্যসমূহের মধ্যে ৩৮ ধরণের পণ্য জাহাজ থেকে সরাসরি নির্দিষ্ট বেসরকারি আইসিডিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক বছর ধরে এই পদ্ধতি চলে আসছে। কিন্তু গত প্রায় দেড় বছর ধরে করোনা মহামারির কারণে লকডাউনসহ বিভিন্ন প্রকার কঠোর কর্মসূচির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জট বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে গত ২৫ জুলাই থেকে ৩৮টি পণ্যের স্থলে সকল আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার বেসরকারি আইসিডিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এতেই আপত্তি বিজিএমইএর।

বিজিএমইএর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, বেসরকারি আইসিডি থেকে পণ্য খালাস নিতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার খালাস নিতে যেখানে দুই দিন লাগে, বেসরকারি আইসিডি থেকে খালাস নিতে ৬/৭ দিন লাগে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২০ ফুট কন্টেইনার খালাস নিতে ৪ হাজার ২৭৭ টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে বেসরকারি আইসিডি থেকে খালাস নিতে খরচ হয় ১৩ হাজার ৭৫৫ টাকা। এছাড়া বেসরকারি আইসিডিসমূহে পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট এবং লোকবল না থাকার অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিনের।

তবে বেসরকারি আইসিডি মালিকদের সংগঠন বিকডার পক্ষ থেকে সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বিজিএমইএর অভিযোগসমূহ অসঙ্গতিপূর্ণ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসরকারি আইসিডির লোকবল ও ইকুইপমেন্ট সংকটের বিষয়টি ঠিক নয়। ১৯টি বেসরকারি আইসিডি শতকরা একশ’ ভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস এবং ২৩ ভাগ আমদানি পণ্য খালাসের কাজ করছে। গত ১০ বছরে দেশের রপ্তানি দ্বিগুণ হয়েছে, যা এই সকল আইসিডির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি আইসিডি থেকে ২০ ফুট এবং ৪০ ফুট কন্টেইনার খালাস করতে যে খরচ বিজিএমইএ দেখিয়েছে তা-ও সঠিক নয়। একইসঙ্গে তিনি বন্দরের সঙ্গে তাদের তুলনামূলক খরচের হিসাব তুলে ধরেন।

এদিকে একই ধরণের অভিযোগ করে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম গত সোমবার এক বিবৃতিতে পূর্বের ন্যায় ৩৮টি আমদানি পণ্য ছাড়া সকল আমদানি পণ্য বন্দর জেটি থেকে খালাস দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো. শাহজাহান ইত্তেফাককে বলেন, আমদানিকারকগণ তাদের পণ্য চারদিনের ফ্রি টাইমের মধ্যে বন্দর থেকে খালাস নিতে পারেন। তাছাড়া কাস্টমস থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে পারলে কোন প্রকার খরচ ছাড়াই পণ্যবাহী কন্টেইনার খালাস নেওয়া সম্ভব। তবে বিজিএমইএর প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।