এসএমই ঋণ যথাসময়ে পরিশোধে নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২১:১৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নারী উদ্যোক্তাদের নেওয়া এসএমই ঋণ সময়মতো ফেরত দিলে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রণোদনার এক শতাংশ পাবেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা। বাকি এক শতাংশ দেওয়া হবে ওই ব্যাংককে। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে প্রথমবারের মতো প্রণোদনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় মাত্র ৫ শতাংশ সুদের ঋণেও এ সুবিধা মিলবে। কোনোভাবে যেন এই সুবিধার অপব্যবহার না হয় সেজন্য নিয়মিত তদারকি করবে বাংলাদেশ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,  ২০২৪ সালের মধ্যে মোট এসএমই ঋণের ১৫ শতাংশ নারীদের মাঝে বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে যা রয়েছে ৪ শতাংশের মতো। এসএমই ঋণে নারীদের অংশ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। চলতি বছরের ১ জুলাই হতে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে এ সুবিধা দেয়া হবে। বিতরণকৃত ঋণ যথাযথ ব্যবহারান্তে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে সমন্বয় বা আদায় বা পরিশোধ হলে ব্যাংক ও গ্রাহক পর্যায়ের প্রত্যেককে মূলঋণের ১ শতাংশ  হারে সর্বমোট ২ শতাংশ প্রণোদনা সুবিধা দেওয়া হবে। ঋণের মঞ্জুরী পত্রে প্রণোদনা সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়টির উল্লেখ থাকতে হবে। এ সুবিধার আওতায় ঋণ গ্রহণকারীর তথ্য ডাটাবেইজ সংরক্ষণ করতে হবে। যে কোনো ঋণ সম্পূর্ণ সমন্বয় বা আদায় বা পরিশোধ হওয়া সাপেক্ষে এর বিপরীতে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো  প্রণোদনা দাবি করতে পারবে।

প্রতি তিন মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে যে সব  ঋণ নির্ধারতি মেয়াদে পরিশোধ হয়েছে তার বিপরীতে মহাব্যবস্থাপক, এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ বিভাগের নিকট প্রণোদনার জন্য আবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদন পত্রের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রেরিত  নির্ধারিত ছকে প্রণোদনার হিসাব  সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনপত্র  যথাযথভাবে যাচাইপূর্বক প্রণোদনা বাবদ প্রাপ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাবে জমা  হবে। প্রণোদনার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়ার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নারী উদ্যোক্তার প্রাপ্য অংশ গ্রাহকের নামে রক্ষিত ব্যাংক হিসাবে প্রদান করবে। তবে, এ অর্থ দ্বারা কোনো ঋণ হিসাব সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না। দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো সময় পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পরিদর্শনকালে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সে বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।