স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ হতে নেমেই গেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তিন ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত হয়ে গেল ব্রাদার্স ইউনিয়নের অবনমন। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাদা মাঠে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ৩-০ গোলে ব্রাদার্সকে হারিয়ে নিজেরা বেঁচে গেল আর ব্রাদার্স নেমে গেল।
পাকিস্তানি কোচ গফুর বেলুচের হাতে গড়া গোপীবাগের দল ব্রাদার্স তৃতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে ওঠে। দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৯৭৫ সালে প্রথম বিভাগ লিগে উঠেছিল। উঠেই আবাহনীকে হারিয়েছিল। ঢাকার ফুটবলে মোহামেডান আবাহনীর পর ব্রাদার্স ছিল তৃতীয় শক্তি। সেই শক্তি আজ মাটিতে গড়াগড়ি খায়। পাকিস্তানি ফুটবলার গফুর বেলুচ তার জীবনটা কাটিয়ে গেছেন বাংলাদেশে, জীবন সংসার বাদ দিয়ে ব্রাদার্সের ডেরায় ছিলেন। অসুস্থ হয়েও পাকিস্তানে ফিরে যাননি। বাংলাদেশে ছিলেন, এখানেই মৃত্যুবরণ করেন। গফুর বেলুচ শায়িত গোপীবাগের পঞ্চায়েত কবরস্থানে। ক্লাব থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব। ব্রাদার্সের এমন পতনে গফুর বেলুচের আত্মা শান্তি পাবে না।
নিজ হাতে খেলোয়াড় তৈরি করে মাঠে নামিয়েছিলেন গফুর বেলুচ। সেই ব্রাদার্সকে আজ দেখার কেউ নেই। নেতৃত্বের সংকটে পড়ে কমলা নীল জার্সির বুকটা ছিন্নভিন্ন, ক্ষতবিক্ষত। দেখার কেউ নেই। ক্লাবের তিন জন বাফুফের কমিটিতে, টিভি পর্দায় সব সময় সরব কণ্ঠ মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, আমের খান এবং মহিদুর রহমান মিরাজ। দেশের ফুটবলের সেবা করবেন বলে বাফুফেতে নির্বাচিত হয়েছেন। শীর্ষে থাকা এই কর্মকর্তাদের দলটির খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। লিগে ২১ ম্যাচের মধ্যে ১৭ ম্যাচে হেরেছে ব্রাদার্স।
একই পাড়ার ছেলে সেলিম, বাবলু, মহসিন, ওয়াসিমদের গৌরবের, অহংকারের ব্রাদার্স শেষ হয়ে গেল দক্ষ পরিচালনার অভাবে। এই প্লেয়াররা আগাখান গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ব্রাদার্সকে। ফেডারেশন কাপ ঢামফা কাপ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। সাবেক ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু দুঃখ করে বলছিলেন, আমাকে ব্রাদার্সের বাবলু হিসাবে জানে। আমি সেলিম, মহসিন, ওয়াসিম আমরা সবাই ব্রাদার্সের তৈরি। মোহামেডান আবাহনীতে খেলেছি। রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছি। সবই ব্রাদার্সের কারণে। তিনি বলেন, ‘গত ১০টা বছর ধরে ব্রাদার্স নামি নামি করছে। ’৭৫-এর পর এবার রেলিগেশন হয়েছে। সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, সাদেক হোসেন খোকা, গফুর বেলুচদের আত্মা শান্তি পাবে না।’
