অস্পৃশ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের গান্ধীজির দেওয়া নাম ‘হরিজন’। হরিজন শব্দটির অর্থ ঈশ্বরের সন্তান। দেশের শহর, বন্দর কিংবা গ্রাম-গঞ্জে যারা ময়লা-আবর্জনা ও মলমূত্র পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত—সেই মেথর কিংবা ঝাড়ুদারকে হরিজন বলা হয়ে থাকে। তারা সামাজিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত একটি জনগোষ্ঠী। সামাজিক দৃষ্টিতে হরিজনরা খুবই নিচু। এদের সঙ্গে সমাজের সাধারণ মানুষ মিশতে চায় না। তারা হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টে বসে অন্য সবার মতো একসঙ্গে বসে খেতে পারে না। এমনকি তাদের চুমুক দেওয়া কাপে চা খেতেও চায় না কেউ। ব্রিটিশ আমলে জঙ্গল পরিষ্কার, চা-বাগানের কাজ, পয়ঃনিষ্কাশন প্রভৃতি কাজের জন্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাদের এদেশে আনা হয়। বাংলাদেশে বসবাসকারী হরিজনদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে আনুমানিক ৩০ লাখ হবে। ১৯৯১ সালে আদমশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় প্রথম হরিজন নামটি পাওয়া যায়।
হরিজনরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাদের আবাসন সংকটের পাশাপাশি টয়লেট ও গোসলখানার তীব্র সংকট রয়েছে। হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুদের অনেক বেশি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়। হরিজনদের কলোনিগুলোর অবস্থা বেশ নাজুক। বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তখন তাদের কষ্ট চরমে পৌঁছায়। ভারী বর্ষণে ড্রেনের ময়লা পানি ঘরে ঢোকে। হরিজনরা একটি খুপরি ঘরে কয়েকটি পরিবার মিলে একসঙ্গে বসবাস করে। জায়গার অভাবে সবাই ঘুমাতে পারে না। পালাক্রমে একেকজনকে ঘুমাতে হয়। অনেক সময় ঘরের ভেতর কক্ষ বানাতে হয় পর্দা দিয়ে। তারা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা তেমন পায় না। অনেক সময় কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিত্সায় মারা যায়। আমাদের জাতীয় পরিসংখ্যানে তাদেরকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমনকি আমাদের জাতীয় নীতি নির্ধারণী বৈঠকগুলোতেও তাদের কথা কখনোই উঠে আসে না। হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের জন্য তৈরি করে দিতে হবে অন্য সব সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করার সুযোগ।
মো. আশরাফুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
