পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য যে কোনো কারণে মৃত্যুর চেয়ে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর কয়েক হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে গ্রামাঞ্চলেই। এর একমাত্র কারণ অভিভাবকদের অসচেতনতা। গ্রামে প্রতিদিন পুরুষেরা কাজে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে মায়েরা রান্নাসহ বিভিন্ন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে এই সময় শিশু অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকে অথবা একা থাকে। আর গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আশেপাশেই পুকুর অথবা খাল থাকে। তাই অধিকাংশ শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়। পত্রিকায় সচেতনতামূলক অনেক লেখালেখি হয়, কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ মানুষ পত্রিকা থেকে দূরে থাকে। তাই সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন, বেতার ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উদ্যোগে গ্রামে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে। প্রশাসনের সহায়তায় পানিতে পড়া শিশুকে বাঁচাতে গ্রামবাসীর প্রত্যেককে তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক চিকিত্সা জ্ঞান দেওয়া যেতে পারে। সাঁতার না জানা শিশুদের পুল, পুকুর, খাল অথবা নদীসহ অন্যান্য জলাশয়ের কাছে একা ছাড়া যাবে না। একটু বড় হলেই শিশুকে সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
মাসুম রায়হান, শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
