চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২২:১০

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ আরো বেড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ তিন জন গুলিবদ্ধ হন। সংঘর্ষের সময় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ও পুলিশের বেশ কয়েক জন সদস্যসহ বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে। এদিকে চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পরিকল্পনা কমিশনের সচিবের গাড়িসহ অনেক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হলেও পুলিশ বিনা উসকানিতে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চন্দ্রিমা উদ্যানে প্রবেশের কোনো অনুমতি না থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির নবগঠিত দুই কমিটির নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানের পূর্ব পাশে জমায়েত হতে থাকেন। এরপর তারা স্লোগান দিয়ে সমাবেশ করার চেষ্টা করেন এবং অনেকেই উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করেন। নেতাকর্মীরা উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে উপস্থিত পুলিশের সদস্যরা বাধা দেন। পুলিশ জানায়, উদ্যানের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই। তখন জোর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রবেশ করতে চাইলে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছোড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে।

এরপর বেলা ১১টার দিকে বিএনপির মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমানের  কবরমুখী সড়কে যেতে থাকলে পুলিশ ফের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে।                 এ সময় নেতাকর্মীরা এদিক-ওদিকে ছুটতে থাকেন। পুলিশ ধাওয়া করে তাদের চন্দ্রিমা উদ্যানের সীমানার বাইরে বের করে দেয়। এ সময় বিএনপির নেতা আমানউল্লাহ আমান ও আমিনুল ইসলামসহ বেশ কয়েক জন আহত হন। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর, ফার্মগেট এলাকার আশপাশের রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জয়নুল বারীর গাড়িসহ বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুরও করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। আগেও তারা এখানে এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু গতকাল বিএনপির নেতা আমানের পক্ষের উচ্ছৃঙ্খল কয়েক জন এসে হট্টগোল শুরু করে পুলিশের ওপর চড়াও হন।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ বিএনপির তেজগাঁও থানার সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান টগর (৪৮), কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ (৬২) ও কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম (২২) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে জিয়ার কবর জিয়ারত করতে এলে পুলিশ বাধা দেয়। তারা হঠাত্ রাবার বুলেট ছোড়ে এবং নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল এটি। অথচ পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

এদিকে পুলিশের হামলার অভিযোগে আজ বুধবার রাজধানীর সব এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।