হেডকোয়ার্টার্স না অধিদপ্তর

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২২:১০

পুলিশ সদর দপ্তরকে অধিদপ্তর বলা হবে নাকি হেডকোয়ার্টার্স বলা হবে—এ নিয়ে রশি টানাটানি শুরু হয়েছে। ১৯৮৫ সালের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স নামে নামকরণ করা হয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স নামে চিঠিও আদান-প্রদান করা হয়। কিন্তু পরে পরিস্থিতি পালটে যায়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন চিঠিপত্র পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পরিবর্তে পুলিশ অধিদপ্তর হিসেবে সংবোধন করা হয়। এতে বাধে বিপত্তি। এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

গত বছরের নভেম্বর মাসে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়। এই চিঠিতে পুলিশ অধিদপ্তরের পরিবর্তে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স শব্দ ব্যবহার করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, পুলিশ সদর দপ্তরকে হেডকোয়ার্টার্সে রূপান্তর করার জন্য কোনো আদেশের ফাইল মন্ত্রণালয়ে নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৫ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বিভিন্ন সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স উল্লেখ করে যেসব চিঠি আদান-প্রদান করা হয়েছে সেগুলোও ঐ চিঠিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অধীনেই হচ্ছে র্যাব হেডকোয়ার্টার্স ও ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স। এছাড়া আনসার হেডকোয়ার্টার্স ও বিজিবি হেডকোয়ার্টার্স থাকলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বলতে সমস্যা কোথায়? উল্লিখিত ক্ষেত্রে হেডকোয়ার্টার্স বলা গেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বলা যাবে না কেন? পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এটা কীসের আলামত? হীনমন্যতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ হেডকোর্য়ার্টাস বললে অসুবিধা কী? আইজিপি হলো সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার। তার দপ্তর তো হেডকোয়ার্টার্স হবে। এটার বিরোধিতা করার উদ্দেশ্য হলো, পুলিশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করার সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। যে আমলা এই কাজটি করছেন,      তিনি বিএনপি সরকারের আমলে এই মন্ত্রণালয়ে সে সময় এক মন্ত্রীর ভাগিনা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি আবার এই মন্ত্রণালয়ে আসার পর এসব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো কর্মকর্তা এমনটাই দাবি করছেন।