তিস্তা ও ধরলায় তীব্র ভাঙন

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২২:১৬

চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দফায় দফায় পানি কমা-বাড়ায় মারাত্মক ভাঙনের কবলে দিশাহারা হয়ে পড়েছে তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার মানুষ। তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে গত এক মাসে উলিপুর, রাজারহাট ও চিলমারী উপজেলার ৪২ কিলোমিটার নদীপথে অন্তত ৩০টি পয়েন্টে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ  বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। নদীপাড়ের মানুষ ঘরবাড়ি সরাতে সরাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

ধরলায় ভাঙন : ধরলা নদীর ভাঙনকবলিত কুড়িগ্রাম সদরের মোগলবাসা               ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর চর কৃষ্ণপুর এলাকায় তীব্র ভাঙনে অন্তত ৬৫টি পরিবার ভিটেমাটি হারানোর পাশাপাশি প্রায় ২০ একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বিলীন হয়েছে চর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি সরিয়ে নদী থেকে দূরে কোনো মতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিলেও গবাদিপশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুর, সর্দারপাড়া, চর সিতাইঝাড়, নূরানীপাড়া এবং পাঁচগাছি ইউনিয়নের কদমতলা এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো খাদেম আলী, জাহের আলী, ফুলবর মিয়া, আজগার আলীসহ আরো অনেকে জানান, তাদের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অন্যের জমিতে কোনো মতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। আবার যে কখন এখান থেকে সরে যেতে হবে এই আশঙ্কা তাদের। মোগলবাসা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী জানান, ধরলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে। তার এলাকায় পাউবো ভাঙন রোধে মাত্র ৩০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছে। আরো বেশি কাজ করা প্রয়োজন।

তিস্তার ভাঙন : সরেজমিনে তিস্তা অববাহিকার ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুড়িগ্রামে তিস্তার দফায় দফায় ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ। ভাঙন ঠেকাতে সরকারি তেমন পদক্ষেপ না থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন তারা। বিভিন্ন স্থাপনাসহ তিস্তার পাড়ের মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ, চর খিতাব খাঁ, গতিয়াশাম, সরিষাবাড়ি ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি, তৈয়ব খাঁ, চতুরা, কালিরহাট, চর বিদ্যানন্দসহ ১০ গ্রামে দফায় দফায় ভাঙনে পাঁচ শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া হুমকির মুখে পড়েছে সহস্রাধিক বসতভিটাসহ বাজার, বিদ্যালয়, মসজিদ ও মন্দির।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম বগুড়াপাড়া গ্রামের শামসুল হক বলেন, ‘এইবার নিয়্যা তিনবার বসতভিটাসহ ঘরবাড়ি তিস্তা নদী ভাংগি নিয়া গেলো। ভাঙন তো থামেই না, ঘরবাড়ি করি যে থাকমো তারও কোন জায়গা নাই। পরিবার-পরিজন নিয়া কই যাই, কই মাথা খোঁজার ঠাঁই করি।’

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, গত এক মাসে তার ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার এলাকার দুটি ওয়ার্ডের অধিকাংশই তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ৮০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কোনো মতে মাথা গুঁজে আছে।  জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। তিস্তা নিয়ে প্রক্রিয়াধীন মেগা প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।