ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ প্রদান করে ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ফাস ফাইন্যান্সের সাবেক এমডিসহ পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার একই অভিযোগে ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের মোট ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পি কে হালদারের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তকালে ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদকের কর্মকর্তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এসব ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক পি কে হালদারের দায় আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে দুদক।
গতকাল যে পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহরিয়ার, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল হক গাজী, পরিচালক এম এ হাফিজ, মো. আবুল শাহজাহান ও অরুণ কুমার কুণ্ডু।
দুদক সূত্র জানায়, গত ৮ আগস্ট এফএএস ফাইন্যান্সের শীর্ষ ২৬ কর্মকর্তা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চার জনসহ মোট ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ১২ জন কর্মকর্তাকে হাজির থাকতে তলবি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এই ১২ জনের মধ্যে গতকাল পাঁচ জন কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মাত্র হাজির হন। সকাল সোয়া ১০টা থেকে দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে, পরিচালক আবুল শাহজাহান জানান, টাকা আত্মসাত্ হয়েছে। তবে তিনি জড়িত নন।
দুদক সূত্র বলছে, ফাস ফাইন্যান্স ইনভেস্টম্যান্ট লিমিটেড একসময় শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিপাকে পড়ে। এই টাকা আর ফেরত আসে না। গ্রাহকের আমানতের টাকা দিতেও হিমশিম খায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। পরে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ব্যাংক দুদকের একটি প্রতিবেদন পাঠায়। ঐ প্রতিবেদনের আলোকে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
