ক্ষণজন্মা জহির রায়হান

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ২০:২৫

 

একটি অবিস্মরণীয় নাম, একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যিনি পরিচিত হন। তিনি শুধু ঔপন্যাসিকই নন, তিনি ছিলেন একাধারে একজন কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রনির্মাতা ও সাংবাদিক। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। তাঁর নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’-এর কারণেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে দেশের বাইরের মানুষ জানতে পারে এবং জহির রায়হান বহির্বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন।

মাত্র আটটি উপন্যাস লিখেই তিনি বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন লেখকের মর্যাদা পেয়েছেন। তাঁর উপন্যাসে রয়েছে রোমান্টিকতা, অবহমান গ্রামবাংলার আখ্যান, ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্বসহ নানা দিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। অন্যান্য উপন্যাস: হাজার বছর ধরে (১৯৬৪), আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯), বরফ গলা নদী (১৯৬৯), আর কতদিন (১৯৭০), কয়েকটি মৃত্যু, একুশে ফেব্রুয়ারি (১৯৭০), তৃষ্ণা (১৯৬২)। সাংবাদিক হিসেবেও তিনি তাঁর কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সাপ্তাহিক ইংরেজি পত্রিকা এক্সপ্রেস ও মাসিক বাংলা পত্রিকা প্রবাহের সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর জহির রায়হান ঢাকায় ফেরেন। ফিরে জানতে পারেন, মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পাকহানাদারবাহিনী তাঁর বড় ভাই প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সারকে অপহরণ করে। তখন তিনি তাঁর বড় ভাইকে খুঁজতে থাকেন। ১৯৭২ সালের ২৮ জানুয়ারি সকালে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে জানান যে, তাঁর ভাইকে মিরপুর ১২ নাম্বারে একটি হাউজিং সেক্টরে আটকে রাখা হয়েছে। একথা শুনেই তিনি ভাইয়ের খোঁজে মিরপুর যান এবং আর ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজাখোঁজির পড়েও যখন তাঁকে পাওয়া যায়নি, তখন ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যুদিন হিসেবে ধরা হয়। সেদিন রহস্যময় ফোনকলটি বিশ্বাস না করলে বাঙালি এই কিংবদন্তিকে এত অল্প বয়সে হারাত না। বাংলা সাহিত্য পেত আরো অনেক কালজয়ী উপন্যাস। বাংলা চলচ্চিত্র পেত দর্শক নন্দিত চলচ্চিত্র।

আজ ১৯ আগস্ট জহির রায়হানের জন্মদিবস। ১৯৩৫ সালে বর্তমান ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সাজেদুর আবেদীন শান্ত