বারাদার ছাড়া আফগানিস্তানে তালেবানের প্রধান নেতা যারা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ২০:৫৯

বিবিসি ও আল জাজিরা

মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে যে তালেবান আড়াই দশক আগে আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিয়েছিল; বিদেশি সৈন্যদের আক্রমণে পাঁচ বছরের মধ্যে ক্ষমতা হারাতে হলেও নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দশক পর আবার দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক শহর দখলের পর গত রবিবার তালেবান কাবুলের দখল করার পর কট্টর এই ইসলামী সংগঠনের বর্তমান নেতাদের নাম আসছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে; যদিও তালেবানের শীর্ষনেতারা বরাবরেই গোপনেই তত্পরতা চালান।

হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা

তালেবানের বর্তমান শীর্ষনেতা হিসেবে মনে করা হয় হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকে। বাহিনীতে তার পরিচয় ‘বিশ্বাসীদের নেতা’। রাজনৈতিক, সামরিক, ধর্মীয় যে কোনো বিষয়েই তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ২০১৬ সালে তত্কালীন নেতা মোল্লা মানসুর আখতার যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর আখুন্দজাদা নেতৃত্বে আসেন। তার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। এর আগে আখুন্দজাদা বড় ধরনের নেতা ছিলেন না, মূলত ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ হিসেবেই বাহিনীতে ছিলেন। ২০১৬ সালের আগে ১৫ বছর পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুচলাক শহরের একটি মসজিদে তাকে ইমামতি করতে দেখেছেন অনেকে। আল কায়দার শীর্ষনেতা আইমান জাওয়াহিরির আশীর্বাদই তাকে তালেবানের শীর্ষনেতার আসনে বসিয়েছে বলে মনে করা হয়। ন্যাটো বাহিনীর হামলা, মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পর কোণঠাসা থাকা অবস্থায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলে তালেবানকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন আখুন্দজাদা।

সিরাজউদ্দীন হাক্কানি

সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ের ‘মুজাহিদ’ নেতা জালালুদ্দিন হাক্কানীর ছেলে হলেন সিরাজউদ্দীন হাক্কানি। তিনি একই সঙ্গে তালেবানের উপপ্রধান, আবার হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান। বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েত অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রই এই হাক্কানি নেটওয়ার্ক  গড়ে তুলেছিল এবং সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা দুর্ধর্ষ হামলায় জড়িয়ে আছে এই উপদলের নাম। পরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটোবাহিনীর ওপরও সমানে হামলা চালিয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক। গত কয়েক বছরে কাবুলে যে কয়টি বড় ধরনের আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে, তা হাক্কানি নেটওয়ার্কেরই চালানো বলে মনে করা হয়। আফগান কর্মকর্তাদের হত্যা, বিদেশি সৈন্যদের অপহরণের অভিযোগও রয়েছে এই দলটির বিরুদ্ধে।

মোল্লাহ ইয়াকুব

তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লাহ ইয়াকুব বর্তমানে তালেবানের উপপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর।  তিনি বাহিনীর সামরিক শাখার প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। যুদ্ধের কৌশল ঠিক করা, অভিযান পরিচালনা করা তার কাজের অংশ। বাহিনীতে শ্রদ্ধার পাত্র মোল্লাহ ইয়াকুব, তা অনেকটা তার প্রয়াত বাবার কারণে। যে কারণে দলে বিভেদ কিংবা কোন্দলের সময় ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ান তিনি।

মোল্লা আবদুল হাকিম

নানা আলোচনায় তালেবানের নেতৃত্ব দেন মোল্লা আবদুল হাকিম। দলের ধর্মীয় কাউন্সিলের প্রধান তিনি। বলা হয়, নিজের বাহিনীতে আখুন্দজাদা যাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন, সে হলেন মোল্লা আবদুল হাকিম।