বর্তমান সময়ে নারীরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আপাতদৃষ্টিতে প্রচুরসংখ্যক নারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে মনে হলেও এর বেশ বড় অংশই রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কখনো স্বেচ্ছায়, কখনো পরিস্থিতি বিবেচনায় বা প্ররোচনার শিকার হয়ে নারীরা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। স্বামী বা স্ত্রী নিজে পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার কারণে স্ত্রীর হাতে স্বামীর হত্যা বা স্ত্রীর সহযোগিতায় স্বামীকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। ম্যারিটাল রেইপ বর্তমান সময়ের খুবই স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোর একটি। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তা অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ বিয়ের পরও অনেক নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হন। ফলে ম্যারিটাল রেইপ ধারণাটি বরাবরই প্রাসঙ্গিক।
আবার পারিবারিক বন্ধনের অভাবেও নারীরা বিভিন্ন রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেও নারীদের অপরাধ বাড়ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে ধর্মের অপব্যাখ্যার কারণে নারীরা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। হলি আর্টিজন সহিংসতার পর বিভিন্ন সময় ৮৫ জন নারী জঙ্গিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২১ শতাংশ নারীই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে স্বামীর প্ররোচনার মাধ্যমে। ১৪ শতাংশ পারিবারিকভাবে, ৪ শতাংশ শিক্ষদের মাধ্যমে, ৩ শতাংশ নারী জড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে।
সামাজিকভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে নানা বিষয়ে অনেক বৈষম্য রয়েছে। ছোট বেলায় খেলনা থেকে শুরু করে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতেও ছেলেমেয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হয়। এর ফলে নারীদের মধ্যে হতাশা কাজ করে এবং তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। বাবা-মায়ের কঠোর শাসনের কারণেও নারীরা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক সময় নারীরা নিজেদের অসহায় ও নির্যাতনের শিকার দাবি করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে অন্যকে ফাঁসানো, অন্যের মানহানির চেষ্টা করার মতো ঘটনা হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় দীর্ঘদিন অত্যাচার ও নির্যাতনের করণে নারীরা অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে।
নারীর অপরাধপ্রবণতা রোধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে পারিবারিক বন্ধন ও সম্পৃক্ততা। পিতামাতার ভূমিকা এখানে সবচেয়ে বেশি। কিশোর বয়সে যখন মেয়েরা কোথাও যেতে চায়, হুট করে নিষেধ না করে খোঁজখবর নিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে তাদের জায়গামতো পৌঁছে দেওয়া একান্তভাবে সম্ভব না হলে বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বুঝিয়ে নিষেধ করা উচতি। তাদের বন্ধুরা কেমন তা যাচাই করে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত হতে হবে। এর ফলে মাদক, জঙ্গিবাদের মতো আরো অনেক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া রোধ হবে। বন্ধু, শিক্ষকেরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অপরাধপ্রবণতা রোধে।
পরিশেষে, নারী শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করতে হবে। নারী-পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য, তা দূর করে নারীদের মতামত দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত অনেক মেয়েশিশু রয়েছে, যাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এর ফলে কর্মের সন্ধানে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ও এনজিওর সহযোগিতায় তাদের সুন্দর জীবন গঠনে সহায়তা করতে হবে। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া নারীরা যদি অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসতে চায়, তাদের সুযোগ দিতে হবে। তাহলেই নারীর অপরাধপ্রবণতা রোধ করার ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
