স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রিমিয়ার লিগ হতে নেমে যাওয়া ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফুটবলারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ, কষ্ট। কর্মচারীরাও ভালো নেই। মতিঝিল শাপলা চত্বর হতে মধুমিতা সিনেমা হল পার হয়ে গোপীবাগ এলাকায় প্রবেশের মুখেই বাম পাশে বিশাল জায়গা নিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। আগের দিন প্রিমিয়ার লিগ হতে নেমে যাওয়া ক্লাব ভবনে কোনো কর্মকর্তাকে দেখা গেল না। ইরানি কোচ রাজা পার্কাস তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তার একটা মিটিং আছে।
উজবেক ফুটবলার ফুরকাত জন কাশানবোয়েভ পায়ে বরফ দিয়ে বারান্দায় বসে আছেন। অবনমনের কথা জানতে চাইলে বললেন,‘এখনো রেলিগেশন হয়নি। আরো তিন ম্যাচ বাকি রয়েছে। আল্লাহ বাঁচাবে। এ বছর রেলিগেশন হবেও না।’
অন্য খেলোয়াড়দের রুমগুলোতে গিয়ে দেখা যায় সবাই ঘুম। ঘরের ভেতর হতে দরজার নিচ দিয়ে পানি গড়িয়ে আসছে বাইরে। দরজা ফাঁক করতেই ভেতরে পূতিগন্ধময় পরিবেশ। ময়লা-আবর্জনায় ভরা। দেশের শীর্ষ লিগে খেলা একটা ক্লাবের খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা এত খারাপ হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। প্রত্যেকটা রুমে রুমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। যত্রতত্র ময়লা নোংরা পরিবেশে থাকছেন ফুটবলাররা। কর্মকর্তারা নাকি কেউ কখনো দেখতেও আসেননি। অবনমন নিয়ে কথা বলতে গেলে খেলোয়াড়রা মুখ খুলতে রাজি না। তাদের কণ্ঠে অভাব-অনটন বেদনার কথাই বেশি।
খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। বিনা টাকায় খেলছেন। চুক্তির টাকা চাইলে বলা হয় রেজাল্ট ভালো না। পরিবার হতে ফুটবল খেলা বন্ধ করে বাড়ি ফিরে আসতে বলা হয়েছে। ইনজুরি হলে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা নেই। খেলোয়াড়রা বলছিলেন তারা মাঠে নামলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে ভাগ্যটাও পক্ষে থাকতে হয়। টাকা-পয়সা না পেলে কয়দিন মন ভালো থাকে। খাওয়া-দাওয়াও ভালো না। ভাজি-ভর্তা, কখনো মাছ-মাংস দেওয়া হয়। একজন ফুটবলার বললেন,‘জাগিয়ে তোলার কেউ নেই। আমরা মুরগি প্লেয়াররা হয়ে গেছি। কেন এত বড় একটা ক্লাব রেলিগেশন হবে। আগে কোচ ছিলেন সেন্টু ভাই, চলে গেছেন। ইরানি কোচ এসেছেন অনেক পরে। এভাবে একটা ক্লাব চলে না। অন্য ক্লাবের বাতিল করা বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে।’ কথা বললে পরিষ্কার বুঝাই যায় পরিচালনায় গলদ। যত ভালো প্লেয়ার আনেন লাভ হবে না। এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলতে ক্লাবে কাউকে পাওয়া গেল না। ম্যানেজার আমের খানকে ফোন করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এই দলের সাবেক তারকা ফুটবলার ওয়াসিম ইকবাল বলছিলেন, ‘ব্রাদার্স ইউনিয়ন রেলিগেশন হবে এটা অনেক দিন ধরেই দরজায় নক করছিল। ধরুন আপনার জ্বর। ভালো হচ্ছে, আবার জ্বর আসছে। তাহলে আপনি কি বসে থাকবেন। অবশ্যই কি কারণে জ্বর আসছে-যাচ্ছে, পরীক্ষা করাবেন। সতর্ক হলাম না কেন, যারা ক্লাব চালায় তারা আরো ভালো বলতে পারবেন। আর এই সমস্যাটা এ বছরই না তিন-চার বছর ধরেই হচ্ছে। বেঁচে গিয়েছিল। এবার আর রক্ষা হলো না। তবে তিন ম্যাচ আগে থেকে রেলিগেশন হওয়াটা কল্পনাই করা যায় না।’
