রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় কেটে বসতঘর!

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ২১:২৫

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা 

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় কেটে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড পাইন বাগান এলাকায় সরকারি বীজবাগানে এসব পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জানা যায়। এসব বসতঘরে যে কোনো সময় পাহাড় ধসে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে দেখা গেছে, পাহাড় কাটার এসব মাটি পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে রাণীরহাট-কাউখালী সড়ক। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রাণীরহাট থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে কাউখালী সড়ক পথে ইসলামপুর ইউনিয়নের পাইনবাগান এলাকা। এই পাইনবাগান নষ্ট করেই পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘর। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ঘর নির্মাণ করে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে অনেকেই। ঘরের সঙ্গেই লাগোয়া সুউচ্চ পাহাড়গুলো বৃষ্টির পানিতে ধসে পড়ছে।  স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ বেলাল জানান, গত কয়েক বছর ধরে রাঙ্গুনিয়া ও কাউখালী উপজেলার কিছু দুষ্কৃতকারী রাতের আঁধারে সরকারি বীজবাগানের মালিকানাধীন এসব পাহাড় কেটে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বিক্রি করে আসছে। ঐ স্থানে পাকা, সেমিপাকা, বাঁশ-বেড়ার তৈরিসহ ছোট-বড় অন্তত অর্ধশতাধিক বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো পাইনবাগান এলাকার চারটি পাহাড়ের অন্তত ১২টি স্পটে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। পাহাড় কাটতে গিয়ে সরকারি বীজবাগানের মূল্যবান পাইনবাগান ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করছে একটি চক্র। এছাড়া পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কে পড়ে। ফলে বৃষ্টির পানিতে জল-কাদায় একাকার হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে সড়কে। অন্যদিকে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নির্মাণ করা এসব বসতঘরে পাহাড়ের মাটি ধসে গিয়ে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘২০১৭ সালের ১৩ জুন ইসলামপুর ও রাজানগর এলাকায় পাহাড় ধসে ২১ জন মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।’

সরকারি বীজবাগানের রাঙ্গুনিয়ার স্টেশন কর্মকর্তা বিচিত্র কুমার বলেন, ‘বীজবাগানের পাইনগাছ ও পাহাড় কাটার বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ রাঙ্গুনিয়া থানায় দায়ের করেছি। এছাড়া পরিবেশ আইনেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. মাহবুব মিল্কী বলেন, ‘সরকারি পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের একটি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা এই ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতেখার ইউনুস বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বসতঘর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড় উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।