ইত্তেফাক রিপোর্ট
শিশু ও তরুণদের বাদ রেখে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সম্ভব নয়, বলেছেন শিশু ও তরুণরাই। নির্মল ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় শিশুরা এ কথা জানান। গতকাল সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের আয়োজনে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরম জুমে অনুষ্ঠিত ও ফেসবুক লাইভে ‘রেসপন্ডিং টু ক্লাইমেট ক্রাইসিস :উইথ অ্যান্ড ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ’ শিরোনামে প্রচারিত আলোচনা অনুষ্ঠানে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে শিশু ও তরুণরা। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশু ও তরুণদের বক্তব্য শোনেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহিন আলম বলেন, তাদের অঞ্চলে মানুষের বাসস্থান স্থানান্তরিত হতে হতে বর্তমান বসবাস করার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত নদী ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা তাদের সহায় সম্পত্তি এক রকম ধ্বংসই করে দেয়। গ্রীষ্মের খরার কথা বলেন শাহিন। তার ভাষায়, ‘করোনায় হাত ধোয়ার কথা বলছে সবাই, হাত ধোব কী দিয়ে ? পানিই তো নাই! ’
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে যখন আমরা এই ধরনের উত্সাহ এবং আকাঙ্ক্ষা দেখি, নিশ্চিন্ত হওয়া যায় যে, আমাদের ভবিষ্যত্ নিরাপদ ও শক্ত হাতের কাছেই যাচ্ছে, আমরা ভরসা পাই। বিষয়গুলো এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে আনতে হবে, নয়তো সব আলাপ আলাপই থেকে যাবে। আমাদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন, পরিবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন বিভাগ আছে। তারা যখন মূল্যায়ন করবেন তখন যদি কিশোর ও তরুণ সমাজের মতামত নেন তবে বেশ ভালো একটা অবস্থানে পৌঁছানো যাবে।’ বিষয়টি স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গ্লোবাল ক্লাইমেট ইনডেক্স অনুসারে, ১৯৯৮-২০২১ সালে চরম আবহাওয়াজনিত কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্থান পেয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর পরিচালক প্রফেসর ড. সালিমুল হক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমাদের সমস্যা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে এবং এখন সময় সমাধানে আসা ও তা বাস্তবায়ন করা।’
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি ডিরেক্টর, রিফাত বিন সাত্তার। আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ শামীম আল রাজী, ইউএনডিপির ক্লাইমেট চেঞ্জ স্পেশালিস্ট এ কে এম মামুনুর রশিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নিলোর্মি। শিশু ও তরুণ আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথনেট ফর জাস্টিস কো-অর্ডিনেটর, সোহানুর রহমান, গ্রিনক্লাব মেম্বার আয়শা আক্তার দিয়া এবং লাল সবুজ সোসাইটি সাবিয়া আক্তার মিম।
